সাংবাদিক নিবন্ধন ইস্যু: পেশাদারদের সাথে আলোচনার তাগিদ
শাকিল হাসান
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
গত কয়েক বছরে গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে অগণিত সাংবাদিক। অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধেও। এদের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিও উঠেছে। কয়েকবার সরকারের উদ্যোগও দেখা গেছে। তবে বাস্তবায়িত হয়নি।
এর মধ্যে ৮ জুন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সংসদে জানান, সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব রেখে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইনের সংশোধন আনা হবে।
তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরই নানা প্রশ্ন উঠছে। কেমন হবে নিবন্ধন পদ্ধতি? কারা থাকবেন প্রক্রিয়ায়? কী কী শর্ত থাকবে নিবন্ধনের? এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললেও অনেকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন নিবন্ধনের উদ্যোগকে। তবে সঙ্গে শঙ্কাও আছে।
টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেছেন, যে মানুষগুলো নিবন্ধন করার দায়িত্বে থাকবে, তাদের সততার ওপর কিন্তু অনেক কিছু নির্ভর করবে। যে আশঙ্কা করা হচ্ছে এটা অমূলক নয়— যে দল যখন ক্ষমতায় থাকবে, তাদের পক্ষাবলম্বনকারী সাংবাদিকদের গুরুত্ব দেবে, তাহলে তো প্রকৃত মূল্যায়ন হলো না।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, ওয়েজ বোর্ডই বাস্তবায়ন হতে দেখি না, বেতন-ভাতা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না, সেখানে নতুন করে সাংবাদিকদের নিবন্ধন করা কিংবা আবার নতুন একটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ফেলা বোমেরাং হতে পারে।
সাংবাদিকতার সংকট সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। বরং পেশাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্তের আহবান সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা ইলিয়াস খানের।
তার মতে, এই ব্যাপারে সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত গণমাধ্যমের। কীভাবে গণমাধ্যম চলছে, কারা চালাচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক কারা সেগুলো দেখা খুব জরুরি।
সাংবাদিকতায় শিক্ষকতার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান মনে করেন, সংকট সমাধানে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার না দিয়ে সাংবাদিকদের জরুরি সমস্যায় মনোযোগ দেয়া দরকার।
তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক চর্চায় সংবাদপত্র কিংবা গণমাধ্যমের যে ভূমিকা, সেটিকা আরও শক্তিশালী, নিয়মতান্ত্রিক করা দরকার। পেশাগতভাবে যারা এখানে দায়বদ্ধ, যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে বলা হোক; ইউনিয়নগুলোকে বলা হোক তারা যেন নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ-শক্তিশালী করার জন্য তারাই নিয়মকানুন তৈরি করেন। এখানে সরকার থেকে কিছু চাপিয়ে দিলে সেটা সাংবাদিকদের পক্ষে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যৌক্তিক হবে না।
এদিকে, সিদ্ধান্ত থাকলেও এখনও বেশিরভাগ পত্রিকায় কার্যকর হয়নি ওয়েজবোর্ড। সম্প্রচার সাংবাদিকদের জন্য নেই আলাদা বেতন কাঠামো। শ্রম আইনের বেশিরভাগ সুবিধা অনুপস্থিত দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
/এমএন