দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদের ডেটাবেজ তৈরি করল বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
ভারতের রেকর্ড ভেঙে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদের ডেটাবেজ এখন বাংলাদেশের। বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেজ (বিএমপিপিডি) নামে এই ডেটাবেজে স্থান পেয়েছে প্রায় ৭০০টি ঔষধি উদ্ভিদের ৬৩ হাজার ঔষুধী গুনসম্পন্ন রাসায়নিক উপাদানের তালিকা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স এর দাবি, এই তথ্যভান্ডার নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে দেশীয় গবেষকদের সহায়ক হবে।
ডন অব বায়োইনফরমেটিক্সের গবেষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ঔষধি গাছের একটা বড় হাব আছে। আমরা অনেকদিন ধরেই যেগুলো ব্যবহার করছি। তবে, এতগুলো ঔষধি উদ্ভিদের ডেটা কখনো এক জায়গায় ছিলোনা। অথচ এসব তথ্য নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই উদ্যোগ থেকেই প্রায় ৭শ মেডিসিনাল প্লান্টের প্রায় ৬৩ হাজার ইউনিক কম্পাউন্ড কালেক্ট করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটা গবেষণা ছিলো যে বিষকাটালি উদ্ভিদের ভেতর একটা মোলিকুল আছে যেটা লিভার ক্যান্সারে খুব ভালো কাজ করে। এরকম অসখ্য মোলিকুল আনাচে কানাচে আছে যেগুলো থেকে কার্যকর নতুন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব।
ডন অব বায়োইনফরমেটিক্সের ৩১ জন গবেষক ও সহকারীর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে বিএমপিপিডি। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই তথ্যভান্ডারের সহায়তায় সম্পূর্ণ নতুন (ডি নোভো) ওষুধ উদ্ভাবনের সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। তাদের মতে, আগামী বছর বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ওষুধে বিদ্যমান কিছু পেটেন্ট সুবিধা উঠে গেলে দেশীয় ওষুধ উদ্ভাবন এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণেও এই ডেটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, ৭০০ ঔষধী উদ্ভিদের এই ডেটাবেজ গবেষণার জন্য দেশের ৪৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ব্যাপক সম্ভাবনা সত্ত্বেও সরকারি পৃষ্টপোষকতায় দেশে এ খাতে প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ডন অফ বায়ো ইনফরমেটিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা জানান তাদের তৈরি ডেটাবেজ ভারতের IMPAAT 2.0 কে পেছনে ফেলে এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধি উদ্ভিদের তথ্যভান্ডার।
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শুধু ওষুধ উদ্ভাবনই নয় মোলিকিউলার ডায়াগোনস্টিক এর মাধ্যমে ক্যান্সারসহ নানা রোগের প্রতিকারে কাজ করতে চায় বাংলাদেশের প্রথম এই বায়োইনফরমেটিক্স প্রতিষ্ঠান।
/এএন