বিসিক বর্ষা মেলার উদ্বোধন ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ভবনে রোববার (৫ জুলাই) দুটি পৃথক ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পাশাপাশি সকালে ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি আয়োজনেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্য এবং বর্ষার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে তেজগাঁওয়ের বিসিক ভবনের নিচতলায় শুরু হয়েছে ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’। দুপুর ২টায় মেলার উদ্বোধন শেষে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মেলার বিভিন্ন স্টল ও পণ্য পরিদর্শন করেন।
এবারের মেলায় হস্তশিল্পজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, জামদানি, শতরঞ্জি, মণিপুরী শাড়ি, বস্ত্রজাত পণ্য, নকশিকাঁথা, পাটজাত পণ্য, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য, মধু ও খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৫৬টি স্টল স্থান পেয়েছে। ৩৯৮, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিসিক ভবনের নিচতলায় ৫ জুলাই থেকে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য এখানে প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন।
এর আগে রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৯:৩০টায় বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে সারাদেশের বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ৬৯ বছরে বিসিকের অর্জন, সমস্যা ও নানা সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান মো: সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বিসিকের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। চলমান ও নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটানোর তাগিদ দিয়ে তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে বিসিক কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে চেয়ারম্যান জানান, পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পনগরী বা শিল্প পার্ক স্থাপন, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানা চালুর ব্যবস্থা, অনাবাদী প্লটসমূহের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণার বাস্তবায়ন এবং নকশাকেন্দ্রের আধুনিকায়ন ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
/এএ