×
Logo

জাতীয়

সুইস রাষ্ট্রদূতের আশ্বাস

বাংলাদেশি জনশক্তিকে দক্ষ করতে কাজ করবে সুইজারল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

বাংলাদেশি জনশক্তিকে দক্ষ করতে কাজ করবে সুইজারল্যান্ড

বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে সুইজারল্যান্ড সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। 

রোববার (২৮ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও নিবিড় সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশি যেসব কর্মী বিদেশে অবস্থান করে আবার দেশে ফিরে আসে তাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পুনর্বাসনের উপর তিনি গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক অভিবাসন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি নিজ দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তার চেয়েও বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

এদিকে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী 'ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম' উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। তবে OEP-কে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কর্মমুখী ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুখ্যাতির কথা স্মরণ করে তিনি এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডের বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে অবস্থানকারী বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা ও বিভিন্ন সেক্টরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে এই ডায়াসপোরা কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

/এএন

Logo