গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল
সংস্কারের দাবি ভুলুণ্ঠিত হওয়ার শঙ্কা, সরকারপন্থীদের ভিন্নমত
রাসেল আহমেদ
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
রাজনৈতিক পালাবদলে বদলে যাবে না বিচারকের আদেশ। আবার সিদ্ধান্ত ক্ষমতার বিপরতীতে গেলেও ঝুঁকিতে পড়বেন না বিচারক-গণমানুষের এমন চাওয়া অনেক দিনের।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৃথক সচিবালয় ও নিয়োগের অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সে অনুযায়ী কার্যক্রমও শুরু হয়। তবে ভোটের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তা ত্রুটিপূর্ণ বলে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন আইনজীবীরা। কারো কারো অভিমত, বাধাগ্রস্ত হবে বিচারালয়ের স্বাধীনতা।
সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণের জন্য যে বিলটা আনা হয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যদিও বলা হচ্ছে পরবর্তীতে এটাকে অধিকতর শক্তিশালী করা হবে; আসলে আমাদের মনে অনেক সন্দেহ জাগছে যে এটা আদৌ করা হবে কি না। কারণ, উনারা যদি চাইতেন, তাহলে এই সচিবালয় যেভাবে আছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এখানে জনবল আছে, কাজ করছে, এটাকে উনারা রাখতে পারতেন।
বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো মাহবুবুর রহমান খান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ যেটা করেছে, সেটা কিন্তু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। যোগ্যতার ক্ষেত্রে একটা অতিরিক্ত ৪৫ বছর বয়সের একটা শর্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কিন্তু আমাদের সংবিধানে নাই। বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ যেটা, সেটার মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিচারক নিয়োগ হয়েছে। সেখানে কতটুকু স্বাধীনভাবে নিয়োগ হয়েছে সেই কথা আমি এখানে আর নাই বললাম। আসলে মানসিকতা হচ্ছে মূল।
এছাড়াও স্থানীয় সরকারে নিয়ন্ত্রণ ও গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমান সরকারের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হবহু পাসের সুপারিশ করলেও ২০টিতে আপত্তি জানায়। যার মধ্যে চারটি বাতিলের সুপারিশ করে। সংসদে এরইমধ্যে রহিতকরণ বিলও তোলা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী বলেন, স্বাধীন কমিশন হিসেবে যদি আমরা চাই যে মানবাধিকার কমিশন কাজ করবে, তাহলে মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসার কোনো সুযোগ নাই। এখানে প্যারালাল সরকার হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমরা চাচ্ছি, এটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সড হবে। ৭০ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। অর্থাৎ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সংস্কার প্রস্তাবগুলো প্রাধান্য পাবে। সেখানে নোট অব ডিসেন্ট থাকুক বা না থাকুক।
মো. মাহবুবুর রহমান খান বললেন, নির্বাচিত সরকারের জন্য দায়িত্ববোধটা আরও বেশি। কারণ, এরা জনগণের নির্বাচিত সরকার। সুতরাং ওই জায়গায় যে অসামঞ্জস্যতা আছে বা বাস্তবমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো সমাধান করে আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায়... যদিও এটা মিসলিড করা হচ্ছে বা মিসকোট করা হচ্ছে যে ২০টা বাতিল করা হয়েছে।
তবে দুই আইনজীবী মনে করেন, সংস্কার কেবল আইনি কাঠামোতে নয়; দরকার এর বাস্তবায়ন। সেজন্য আইন প্রণেতাদের সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
/এমএন