জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত— যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
শাকিল হাসান
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে টালমাটাল জ্বালানি তেলের দাম। যা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বাংলাদেশের মত দেশগুলোর ওপর। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে বলে সবাই ধারণা করলেও সে পথে হাঁটেনি সরকার।
দাম স্থিতিশীল রাখার এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ— জ্বালানি তেল বিক্রির মুনাফা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি হিসেবে দিতে পারে সরকার।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ'র (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই মুহূর্তে সরকার আসলে তার মুনাফার অর্থ থেকেই জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টাকা দিচ্ছে। বাড়তি কোনো সুদযুক্ত বা গ্রান্ট এগুলো কিছুই সরকার আসলে দিচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, ১৫ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত শুধু আপনি যদি আপনার এই বাজার ভিত্তিক মূল্য কাঠামোতে যান তাতেই সাশ্রয় সম্ভব। সেটাই সকল ভোক্তার জন্য কাজে আসতে পারে। এর বাইরে আমরা মনে করি যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সাবসিডি বা ভর্তুকি তুলে নেয়া দরকার।
তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের যে কৌশল, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধীরে ধীরে শিফট করতে চায় সেই শিফটিং প্রক্রিয়াটি বড়ভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, এই অবস্থার সাময়িক মোকাবেলা করা, এই ফাঁকে দাম কমানোর যেসব কৌশল আমরা বলছি অংশীজনেরাও বলছে সরকারকে সেই পথে হাটতে হবে।
ক্যাব এর জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারকে মূল্য কমানোর জন্য গণশুনানী করার নির্দেশ দিতে হবে বিআরসিকে। সরকার মূল্যবৃদ্ধি না করে ঘাটতি কমাবে, ভর্তুকি কমাবে সেটা লুন্ঠনমূলক ব্যয় প্রতিরোধ করে।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ ব্যবস্থাই ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে এটি সংশোধন করে বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
/এএন/এমএইচআর