পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
সমতার ভিত্তিতে ভারতের সাথে সম্পর্ক, সংসদে আলোচনা ছাড়া কোনো বিদেশি চুক্তি নয়
মাহফুজ মিশু
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার। এই অবস্থান স্পষ্ট করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ভারতকে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। তবে পারস্পরিক আস্থা ও স্বার্থ নিশ্চিত করেই এগোবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।
এককভাবে কোনো দেশের প্রতি বিএনপি সরকারের নির্ভরতা বা দুর্বলতা নেই দাবি করে শামা ওবায়েদ জানান, সংসদে আলোচনা ছাড়া বিদেশিদের সাথে চুক্তি হবে না। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন তিনি।
যদিও নয়া সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের পর অনেকেরই প্রশ্ন, বিশেষ কোনো দেশের প্রতি কি ঝুকে পড়লো নতুন সরকার?
শামা ওবায়েদের জবাব, কোনো বিশেষ দেশের প্রতি আমরা ঝুঁকছি না। মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা সকল দেশের সাথে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে কথা বলবো। সবার আগে বাংলাদেশ— এই কনসেপ্ট মাথায় রেখে আমরা আমাদের অর্থনীতি, সমাজনীতি সবকিছু আমরা সাজাবো।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দু'দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি, তার আগে জাপান ও চীনের সাথেও বাণিজ্য চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ কী কিংবা কীভাবে চূড়ান্ত হবে বিদেশিদের সাথে চুক্তি, সে প্রশ্নও করা হয় পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে।
শামা ওবায়েদ বললেন, আমরা সংসদকে কার্যকর করতে চাই, আমরা চাই সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা, সংসদে সবকিছু আলোচনা হবে, সেটিই ন্যাচারাল।
নানা ইস্যুতে চরম টানাপোড়েনে থাকা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের একটি মানুষেরও স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কাজ বিএনপি সরকার করবে না। কোনো দেশের সাথে সেই টার্মসে যাবে না। আর সেউ চাইলেও তার প্রতিবেশিকে ইগনোর করতে পারবে না। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে এবং সেই বিষয়ে আমরা বেশ পরিষ্কার।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়টাও আসে আলাপে। সে জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানালেন, এই সরকারের প্রধান কাজই হচ্ছে বিনিয়োগকারীদেরকে আস্থায় নিয়ে আসা। তারা বিনিয়োগ করবে, সেই পরিবেশ বাংলাদেশে থাকতে হবে। ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন ঠিক থাকতে হবে। আমলাতান্ত্রিক ঝামেলা, কোনো দুর্নীতি ছাড়া তারা তাদের কাজগুলো এখানে বাস্তবায়ন করতে পারবে।