সীমান্তের নালুয়া যুদ্ধ, ইতিহাসে অক্ষয় খালেকের বীরত্ব
সাইফুর রাব্বি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ এএম
সীমান্তঘেঁষা নালুয়া চা বাগানে বীর বিক্রম মুজাহিদ আবদুল খালেকের কবর
১৯৭১ সালের ১৪ মে
একদল দেশপ্রেমিক মুক্তিসেনা হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ভারত সীমান্তঘেঁষা নালুয়া চা বাগানে অবস্থান নিয়েছেন পাক বাহিনীর খবরে। দলে আছেন টগবগে তরুণ খালেক। চোখে শত্রু নিধনের নেশা আর বুকে অসীম সাহস। সম্বল একটি মাত্র রাইফেল। পাক সেনাদল লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এলে প্রতিরোধ গড়ে মুক্তিসেনারা। শুরু হয় গুলিবর্ষণ।
মুক্তিসেনাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পিছু হঁটতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী। এক সময় টগবগে তরুণ খালেক গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পজিশন ছেড়ে নিঃশঙ্কচিত্তে সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন। এরমধ্যে শত্রুর ছোঁড়া একঝাঁক বুলেট ঝাঁজরা করে তার বুক। সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সেখানেই সমাহিত করা হয় তাকে। নালুয়ার এই যুদ্ধে ১০২ জন পাক সেনা মুক্তিবাহনীর হাতে নিহত হয়।
শহীদ খালেকের অসীম বীরত্বের জন্য সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করে।

জানা যায়, শহীদ বীর বিক্রম খালেকের পূর্ণ নাম আব্দুল খালেক। তিনি ১৯৪৬ সালে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. আবুদল গোফার। জীবন ও জবিকার তাগিদে ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুজাহিদ বাহিনীতেন যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশপ্রেমের অসীম বাসনা তাকে উজ্জীবিত করে। সম্পৃক্ত হন মুক্তিবাহিনীতে। ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও বিষ্ফোরকের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে রণাঙ্গনে অবতীর্ণ হন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, নালুয়া যুদ্ধ যে স্থানে সংগঠিত হয় তার কয়েকগজ দূরেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। নালুয়া একটি চা বাগান হওয়াতে মুক্তিসেনাদের পজিশন নেওয়া, ভারতের অভ্যন্তর থেকে যাতায়াত সবকিছু সহজ ছিলো। খালেক একজন অসীম সাহসী মানুষ ছিলেন। প্রবল গুলিবর্ষণের মধ্যে নিরাপদ স্থান ছেড়ে পাক সেনাদের দিকে গুলি করতে করতে এগিয়ে যান। তার মৃত্যুর পর ঠিক এই জায়গাতেই আমরা তাকে সমাধিস্থ করি।
স্থানীয় গবেষক ও সাংবাদিক নুরুল আমিন চিশতি বলেন, বীর মুজাহিদ আব্দুল খালেক অসীম সাহসী একটি উদাহরণ তৈরি করে গিয়েছেন। নতুন প্রজন্মকে উচিত তার জীবনকে অধ্যয়ন করা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চর্চা বেশী বেশী করা।
প্রতি বছর বিভিন্ন দিবসে সীমান্তঘেঁষা নালুয়া চা বাগানে বীর শহীদ খালেকের কবরে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের মানুষ। নির্জন সীমান্তঘেঁষা চা বাগানের মাঝে বীর শহীদ মুজাহিদ খালেকের সমাধি যেন মনে করিয়ে দেয় বীরত্বের সেই অগ্রন্থিত কাহিনী।
/এসআর