×
Logo

অন্যান্য

২০২৭ সালে ঢাকায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিজনেস সামিট, গঠিত হচ্ছে পারচেসিং কনসোর্টিয়াম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

২০২৭ সালে ঢাকায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিজনেস সামিট, গঠিত হচ্ছে পারচেসিং কনসোর্টিয়াম

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ২০২৭ সালে ঢাকায় বিজনেস সামিট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি কোয়ালিশন (বিবিসিসি)। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্রয়ক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়াতে গঠন করা হবে পারচেসিং কনসোর্টিয়াম।

রোববার (২৫ অক্টোবর) লন্ডনে বিবিসিসি ও হোপস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘অ্যান ইভনিং উইথ হোপস ফাউন্ডেশন—বিজনেস, ফিলানথ্রপি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন হোপস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এনায়েতউদ্দিন খান কায়সায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিবিসিসির সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল শুকুর খালিসাদার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিরাজ হক, হোপস ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম. আফজাল হোসেইন, সংস্থাটির উপদেষ্টা মুস্তাফিজুর রহমান এবং নেক্সট স্টেজ ইভেন্টসের সিইও আব্দুল্লাহ মাহমুদ। নারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায় সহায়তা কার্যক্রমের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনায়েতউদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে কাজ করবে হোপস ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ব্রিটেনের রেস্টুরেন্ট ও সেবা খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা সফল হলেও রিটেইলসহ অন্যান্য খাতেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বহু উদ্যোক্তা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বাড়াতে পারলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং পণ্যে মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে। এনায়েতউদ্দিন খান সোনিয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

বিবিসিসির সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল শুকুর খালিসাদার জানান, পারচেসিং কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ছোট ও স্বতন্ত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সম্মিলিত ক্রয়ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে তারা বড় উৎপাদনকারী, পাইকারি বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য কেনা এবং অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত পাওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, খুচরা বিক্রয়, আতিথেয়তা ও খাদ্যপণ্য বিতরণসহ বিভিন্ন খাতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের ক্রয়চাহিদা একত্র করা গেলে বৃহৎ পরিমাণে পণ্য কেনার সুবিধা পাওয়া যাবে, যা ব্যয় কমিয়ে ব্যবসার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে।

খালিসাদার আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে আগ্রহী। অন্যদিকে বাংলাদেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোরও উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিবিসিসি জানিয়েছে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এসএমই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্য থেকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের বিজনেস সামিটের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নেও কাজ করবে সংগঠনটি।

/এনএ 

Logo