কমনওয়েলথের লেখার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ জিতল বাংলাদেশের দুই বোন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে দুই বোন মাহিতা তাজমীন কাইয়ুম ও মাহীরা তাইশা কাইয়ুম। ২০২৬ সালের ‘দ্য কুইনস কমনওয়েলথ রাইটিং কম্পিটিশন’-এ স্বর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে বড় বোন মাহিতা। আর ছোট বোন মাহীরা পেয়েছে ব্রোঞ্জ পুরস্কার। একই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দুই বোনের এমন সাফল্যে আনন্দিত তাদের পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশের জন্যও এটি গর্বের অর্জন।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সম্পৃক্ত রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি এ প্রতিযোগিতার আয়োজক। ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক সৃজনশীল লেখার আয়োজন হিসেবে পরিচিত। কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি সদস্যদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, কল্পনাশক্তি, ভাষার দক্ষতা এবং লেখার মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশে উৎসাহিত করাই এ প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতার আয়োজকদের পাঠানো ইমেইল থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালে এতে রেকর্ড ৫৩ হাজার ৮৪০টি লেখা জমা পড়ে। বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগীর মধ্যে বিচারকদের মূল্যায়নে মাহিতার স্বর্ণ ও মাহীরার ব্রোঞ্জ পুরস্কার অর্জন তাদের সৃজনশীল প্রতিভার উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
দুই বোনের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ছোটবেলা থেকে লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ও নিয়মিত চর্চা। বিশেষ করে ছোট বোন মাহীরার কাছে বড় বোন মাহিতা লেখালেখির অন্যতম অনুপ্রেরণা। বড় বোনের লেখালেখি ও সাফল্য তাকে নিজের সৃজনশীল চর্চায় উৎসাহ জুগিয়েছে।
দুই বোনের পুরস্কার পাওয়ার গল্পে রয়েছে এক মিষ্টি পারিবারিক মুহূর্তও। মাহীরা ব্রোঞ্জ পুরস্কার পাওয়ার পরও বড় বোনের ফলাফল নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। তার বিশ্বাস ছিল, সে যদি ব্রোঞ্জ পুরস্কার পেয়ে থাকে, তাহলে বড় বোনের স্বর্ণ পুরস্কার পাওয়া উচিত। মাহিতার ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরাও অধীর আগ্রহে ছিলেন। অবশেষে মাহিতার স্বর্ণ পুরস্কার অর্জনের খবর এলে পূরণ হয় সবার প্রত্যাশা।
একই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দুই বোনের এই অর্জন তাদের পারস্পরিক অনুপ্রেরণা, সৃজনশীলতা এবং লেখালেখির প্রতি ভালোবাসার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
এ সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তাদের বাবা বলেন, বাবা হিসেবে এই অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। পুরস্কার দুটির চেয়েও আমাদের কাছে বড় বিষয় হলো, ছোটবেলা থেকে লেখালেখির প্রতি তাদের যে ভালোবাসা ও আগ্রহ, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়িত হয়েছে। আমরা চাই, তারা শুধু পুরস্কার অর্জনেই সীমাবদ্ধ না থেকে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় অবদান রাখুক।
/এনএ