×
Logo

অন্যান্য

রং-রেখায় শিকড়ের সন্ধান

জাপানের ইয়োকোহামায় আর্টিস্ট লিপুর প্রথম একক প্রদর্শনী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

জাপানের ইয়োকোহামায় আর্টিস্ট লিপুর প্রথম একক প্রদর্শনী

জাপানে দীর্ঘ বসবাসের মধ্যেও চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপুর ক্যানভাসে ফিরে আসে বাংলাদেশের মানুষ-প্রকৃতি-লোকজ জীবনের স্মৃতি। নারীমুখ, শাপলা, শাড়ির অলংকরণ কিংবা লাল–সবুজের বিন্যাসে তিনি খুঁজে ফেরেন জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক। 

মূলত, সেই অনুভব ও শিল্পচর্চার বিভিন্ন পর্ব নিয়ে ইয়োকোহামার গ্যালারি শিমিজুতে শুরু হয়েছে তার প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘ডিওটি : দ্য বিগিনিং অফ এভরিথিং’। প্রদর্শনীর বাংলা উপশিরোনাম ‘বিন্দু থেকে সৃষ্টি’।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর), স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায়, প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধনে, প্রধান অতিথি ছিলেন জাপানের মাৎসুদো সিটি কাউন্সিলর মির কাজুয়ে। 


উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, জাপানি চিত্রশিল্পী ও ইয়োকোহামা পোর্ট ইন্ডিপেনডেন্ট প্রদর্শনীর উপদেষ্টা আসানো ইয়াসুনোরি, পেপার কাটিং শিল্পী মিতা চিকাকো এবং গ্যালারি শিমিজুর প্রতিনিধি শিমিজু কাজুএ। আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত চলমান এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে মোট ৪১টি চিত্রকর্ম।


প্রদর্শনীর শিরোনাম শিল্পীর সৃষ্টিভাবনার একটি সূত্র তুলে ধরে। একটি বিন্দু থেকে রেখা, রেখা থেকে আকার এবং আকারের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান জগতের বিস্তার, এই ভাবনার সঙ্গে নিজের শিল্পযাত্রার যোগসূত্র খুঁজেছেন চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপু। 

শৈশবের আঁকাআঁকি, দীর্ঘদিনের চর্চা এবং বাংলাদেশ ও জাপানে জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা মিলেছে এবারের আয়োজনে।

তার চিত্রভাষার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে নারীমুখ। শাড়ির ভাঁজ- অলংকার-খোঁপার ফুল-মুখের অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠেছে বাংলার পরিচিত জীবনের ছাপ। 

এসব কাজে সৌন্দর্যের পাশাপাশি সংবেদনশীলতা, আত্মমর্যাদা ও মানসিক দৃঢ়তার অনুভব রয়েছে। কখনো সরাসরি তাকিয়ে থাকা চোখ, কখনো নীরব কিংবা ধ্যানমগ্ন অবয়ব দর্শককে মানুষের অন্তর্জগতের দিকে মনোযোগী করে।


শাপলার সঙ্গে, চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপুর, শৈশবের একটি স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আট বছর বয়সে, একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় মাত্র ৩টি রং পেনসিল নিয়ে শাপলা আঁকতে শুরু করেছিলেন তিনি। পরে, অন্যদের কাছ থেকে পেনসিল ধার করে ছবিতে আরও রং যোগ করেন। সেই ছবির জন্য পান তৃতীয় পুরস্কার। 

ক্যাটালগের শিল্পী-বিবৃতিতে উঠে আসা এই অভিজ্ঞতা ‘বিন্দু থেকে সৃষ্টি’ ভাবনাকে ব্যক্তিগত তাৎপর্য দিয়েছে। শাপলা তার কাছে প্রকৃতির একটি উপাদানের পাশাপাশি শিল্পযাত্রার শুরুর স্মৃতিও বহন করে।

২০১২ সালে, টোকিও'র, তোয়ো ইনস্টিটিউট অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন থেকে পেইন্টিংয়ে অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। 


জাপানে শিল্পশিক্ষা ও দীর্ঘ বসবাসের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ, প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা তার কাজে প্রতিফলিত হয়েছে। 

এর আগে, বিভিন্ন যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন আর্টিস্ট লিপু। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের চতুর্দশ ইয়োকোহামা পোর্ট ইন্ডিপেনডেন্ট প্রদর্শনী এবং একই বছরের ২৯তম সেয়া আর্ট এক্সিবিশন। সেয়া প্রদর্শনীতে তিনি আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশ নেন।

চিত্রচর্চার পাশাপাশি জাপানের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবেও পরিচিত চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপু। তার প্রতিষ্ঠিত কাহাল আর্ট গ্রুপ বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ শিল্পসংগঠন। কাহাল গ্যালারির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের কাজ প্রদর্শন, বাংলাদেশের নকশিকাঁথা ও লোকশিল্প তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রথম সোলো এক্সিবিশনে, আর্টিস্ট কামরুল হাসান লিপুর শিল্পচর্চার বিভিন্ন ধারা একসঙ্গে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। নারীমুখ-শাপলা-লোকজ অনুষঙ্গ-বিমূর্ত রঙের বিন্যাসের মধ্য দিয়ে ফিরে এসেছে স্মৃতি, মানুষ ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান।

/এআই 

Logo