×
Logo

অন্যান্য

বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন

দেশের পর্যটন খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এ বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, যিনি 'সালাহউদ্দীন সুমন' নামে পরিচিত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যান্টার্কটিকা, আমাজন ও আর্কটিক থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দুর্গম গন্তব্যে ভ্রমণ করে ভিডিও তৈরি করেছেন সালাহউদ্দীন সুমন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, অপরিচিত ভূপ্রকৃতি এবং গ্রামবাংলার জীবন-জীবিকাও তার কনটেন্টে তুলে ধরছেন তিনি।

তার তৈরি এসব ভ্রমণভিত্তিক কনটেন্ট দেশ-বিদেশে দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল কিংবা লিজিংয়ের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের বিকাশে যারা অংশীজন, তারা এগিয়ে এলে মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পর্যটন খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দেশের সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এর মূল লক্ষ্য হলো পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের উৎসাহিত করা। টেকসই পর্যটন, সেবার মানোন্নয়ন ও ডিজিটাল প্রচারণায় তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা নাসের আল নোয়াইস এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ হামিদ।

এছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আক্তার।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড দেশের পর্যটন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এমন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পাওয়া একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য আনন্দ ও গর্বের।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি তার কাছে বিশেষভাবে ভালো লাগার বিষয়।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, দেশের পর্যটন বলতে সাধারণত সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার ও সাজেক ভ্যালির মতো কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্যের কথাই সামনে আসে। তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এসব স্থান নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ কমছে।

তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামবাংলা পর্যটন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত কিংবা বসন্ত: প্রতিটি ঋতুতেই বাংলাদেশের গ্রাম নতুন রূপে ধরা দেয়। এই বৈচিত্র্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

/এআই 

Logo