বিশ্বে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে উষ্ণ মাস আগস্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও একবার উষ্ণতার রেকর্ড ভাঙল পৃথিবী। ২০২৬ সালের আগস্টে, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা রেকর্ডে থাকা যেকোনো আগস্টের তুলনায় সর্বোচ্চ ছিল। একই সঙ্গে উত্তর গোলার্ধও পার করেছে ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্ম।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও) জানিয়েছে, আগস্টে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২০ শতকের গড়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই তাপমাত্রাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, আগস্টের এই তাপমাত্রা ২০২৩ ও ২০২৪ সালের যৌথ রেকর্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
শুধু আগস্ট নয়, জুন থেকে আগস্ট, এই পুরো সময়জুড়ে, এবার রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকালও ছিল প্রায় রেকর্ড উষ্ণ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পৃথক এক বিশ্লেষণে আগস্টের তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের আনুমানিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পাওয়া গেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ মাস।
এছাড়াও অঞ্চলভেদেও ভেঙেছে তাপমাত্রার রেকর্ড। উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপে এবার রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম গেছে। আফ্রিকায় আগস্ট ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম, আর এশিয়ায় এটি ছিল দ্বিতীয় উষ্ণতম আগস্ট।
বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও আগস্ট মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পেছনে চলমান এল নিনো পরিস্থিতিরও ভূমিকা রয়েছে। মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ কারণে অস্বাভাবিক উষ্ণতা তৈরি হয়েছে।
স্থলভাগেও তাপমাত্রা ছিল প্রায় রেকর্ড উচ্চতায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগস্টে বিশ্বের কোনো অঞ্চলেই রেকর্ড শীতল তাপমাত্রা দেখা যায়নি।
একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাতসহ নানা ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
আগস্টে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক: উভয় মেরু অঞ্চলেই সমুদ্রবরফের বিস্তৃতি স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় অনেক কম ছিল।
এদিকে আগস্টে বিশ্বজুড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের তৎপরতাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতার প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখা গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমাগত সঞ্চয়। এর সঙ্গে চলমান এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে উষ্ণ ১০টি আগস্টের সবকটিই ২০১৬ সালের পর ঘটেছে।
এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতেও তীব্র তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন ধরনের জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/এআই