×
Logo

অন্যান্য

শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তির দাবি ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে সুপারিশবঞ্চিতদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তির দাবি ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে সুপারিশবঞ্চিতদের

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগের সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা বিষয়ভিত্তিক শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং তাদের সবাইকে নিয়োগের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিক্ষক নিবন্ধনের সার্কুলার প্রকাশ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপেই উত্তীর্ণ হয়েও তারা সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাননি। দাবি, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শূন্যপদের বিপরীতে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হলেও পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়ভিত্তিক সব শূন্যপদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি আগে সুপারিশপ্রাপ্তদের পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থী টানা দুই দফা সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এতে অনেকেই সামাজিক ও পারিবারিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রার্থীরা আরও জানান, গত এপ্রিলে, শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। সেসময় মন্ত্রী তাদের দাবি যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন এবং এনটিআরসিএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলে দাবি করেন তারা। পরে গত ৮ জুন এক সংবাদ সম্মেলনেও শিক্ষামন্ত্রী তাদের নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দেন বলে উল্লেখ করেন।

তবে সম্প্রতি কলেজ পর্যায়ের মাত্র ৭৫ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন। দাবি, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন বিষয়ে বিপুলসংখ্যক উত্তীর্ণ প্রার্থী আবারও নিয়োগবঞ্চিত হবেন। উদাহরণ হিসেবে তারা বাংলা, ম্যানেজমেন্ট এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শূন্যপদ ও সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যার অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যেসব বিষয়ে বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের চেয়ে বেশি সেসব বিষয়ে তাদের নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখা এবং সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক, স্কুল পর্যায়-২ ও প্রভাষক পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা।

দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা।

/এআই

Logo