×
Logo

অন্যান্য

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

ফাইল ছবি

সংসারে প্রতিটি সন্তানের কাছে বটবৃক্ষের মতো ছায়া আর পরম নির্ভরতার প্রতীক হলেন বাবা। শাসন, স্নেহ আর নিখাদ ভালোবাসার এক গভীর অনুভূতির নাম ‘বাবা’। ভাষাভেদে হয়তো শব্দ বদলায় কিংবা স্থানভেদে বদলায় উচ্চারণ, কিন্তু বাবার প্রতি সন্তানের রক্তের টান আর চিরন্তন ভালোবাসা থাকে অপরিবর্তিত। প্রতিটি বাবার এই সীমাহীন ত্যাগ ও অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। 

রোববার (২১ জুন) সারা বিশ্বে নানা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে এই বিশেষ দিনটি। 

আজকের দিনে বাবার সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানো, উপহার দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করার রেওয়াজ থাকলেও, এই দিবসটি পালনের শুরুর ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়। তবে দিবসটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক নারীর। ডড তার বাবাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা উইলিয়াম স্মার্ট একা হাতেই ডডসহ তার অন্য ভাইবোনদের বড় করেছিলেন। মায়ের জন্য আলাদা ‘মা দিবস’ থাকলে বাবার জন্য কেন থাকবে না—এই ভাবনা থেকেই তিনি সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম বাবা দিবস পালন শুরু করেন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে এই দিবসটির জনপ্রিয়তা ও পরিসর বাড়তে থাকে।

দিবসটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটি বিল উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এই বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। তবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি আসে আরও পরে; ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ এবং ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে আজ অবধি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই প্রতি বছর জুনের এই বিশেষ দিনটিতে বাবা দিবস পালন করা হয়ে আসছে।

সন্তানের জীবনে বাবা হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহারগুলোর অন্যতম। বছরজুড়ে বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেলেও, আজকের এই বিশেষ দিনটি যেন সন্তানকে মনে করিয়ে দেয় শত ব্যস্ততার মাঝেও বাবার হাতটি শক্ত করে ধরে বলা, ‘বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

/এএ

Logo