কিছু শহরের দিকে কেন পুরো পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
প্যারিসের সংস্কৃতি যে কাউকে মুগ্ধ করবে
একটি শহর যখন বিশ্বমানের হয়ে ওঠে, তখন তার পেছনে শুধু টাকা বা সুন্দর স্থাপত্য থাকে না। গত বছর অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স যখন বিশ্বের এক হাজার শহরকে পরীক্ষা করে র্যাঙ্কিং তৈরি করে, তখন তারা পাঁচটি মাপকাঠি ব্যবহার করে। শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি, মানব সম্পদ, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মানকে গুরুত্ব দিয়ে তারা এই র্যাঙ্কিং করে।
এই সূচকে শীর্ষ তিনটি অবস্থান দখল করেছে নিউইয়র্ক, লন্ডন এবং প্যারিস। কিন্তু শুধু এই তিনটি নয়, সিয়েটেল, ডাবলিন, বোস্টন, সান ফ্রান্সিসকো এবং টোকিওর মতো শহরগুলোও তালিকা স্থান পেয়েছে।
প্রশ্ন হলো, এই শহরগুলো কীভাবে বাকিদের থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়ায়? উত্তরটি চারটি বৈশিষ্ট্যে লুকানো।
প্রথমত, এই শহরগুলো বিশ্বজুড়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে। লন্ডনের প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দা নানা দেশ থেকে এসেছে। এই বৈচিত্র্যই শহরের মেজাজ বদলে দেয়। খাবারে, সংস্কৃতিতে, এমনকি রাস্তার আয়োজনেও নতুন চিন্তা আসে। ডাবলিনে গুগল, মেটা, মাইক্রোসফটের মতো বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো অফিস খুলেছে। কারণ সেখানে দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। ট্রিনিটি কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। বোস্টনে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় সমাগম যে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি সেখানে প্রাণবন্ত। সেই অর্থ ফিরে আসে সবুজ পার্ক আর শিল্প জাদুঘরের মাধ্যমে।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ। প্যারিসে একটি শহরেই ১৩০টি জাদুঘর রয়েছে। তার মধ্যে ১১টি নগরভিত্তিক জাদুঘর ২০০১ সাল থেকেই বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এটাই প্যারিসের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে। সিয়েটেলে গ্রাঞ্জ সংগীত বা অল্টারনেটিভ রক ছিল। নিরভানা আর পার্ল জামের মতো ব্যান্ডগুলো সেখান থেকে জন্ম নিয়েছিল। এখন শহরটি নতুন ওয়াটারফ্রন্ট পার্ক খুলেছে। একটা পুরনো রাজপথ ভেঙে তার জায়গায় হাঁটার পথ আর বাইকের লেন তৈরি করেছে।
তৃতীয় বিষয়টি হলো পরিচ্ছন্নতা আর সহজ পরিবহন। লন্ডন গাড়ির দূষণ কমিয়ে শহরকে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার শহর বানিয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোর পরিবহন ব্যবস্থা এত শক্তিশালী যে মানুষ নিজের গাড়ি নিয়ে ঘোরে না। ড্রাইভারবিহীন গাড়ি এখন সেখানে দৈনন্দিন বাস্তবতা। ডাবলিন ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য রেখেছে।

চতুর্থ গুণটি হলো প্রযুক্তি ও সময়ের সাথে এগিয়ে থাকা। সিলিকন ভ্যালির শহরগুলোতে অ্যাপেল, গুগল, এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট রয়েছে।
শহরগুলো প্রতিযোগিতা করছে মানুষ এবং প্রতিভা আকৃষ্ট করতে। যারা এগিয়ে থাকে তারা শুধু উচ্চ দৌড়ায় না, তারা সেই দৌড়ের মাধ্যমে নিজেরাই বদলে যায়।
(সূত্র: বিবিসি'র ফিচার অবলম্বনে)
/এমএমএইচ