×
Logo

জীবনযাপন

চার্ম প্রাইসিং

পণ্যের মূল্য ৯৯ কিংবা ৯৯৯ লেখা থাকে কেন, জানেন কি?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

পণ্যের মূল্য ৯৯ কিংবা ৯৯৯ লেখা থাকে কেন, জানেন কি?

ছবি: এআই জেনারেটেড

মায়িশা মালিহা⚫

'অমুক' অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যা কত? ছোটবেলায় প্রাথমিক গণিতে আমাদের খুব পরিচিত পাঠ্য পরিচ্ছেদ এটি। দুই অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যা ৯৯, তিন অঙ্কের ক্ষেত্রে সেটি ৯৯৯। আবার চার অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ১০০০। এই সংখ্যা বা ডিজিটের প্রশস্ততা শুধু আমাদের চোখের রেটিনায় পরে দৃশ্যমান রূপ নিয়ে মস্তিস্কে সেই সংখ্যাকে চিহ্নিতই করে না, এর মনস্তাত্ত্বিক পরিসরও বেশ বিস্তৃত। সংখ্যা যদি ৪ ডিজিটের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতমও হয় তবুও অনেক বড় মনে হয় আমাদের, ৩ ডিজিটের সবচেয়ে বড় হলেও কেন যেন ছোট মনে হয়। অথচ এদের পার্থক্য মাত্র ১। আবার সমান ডিজিটেও শতক, হাজার বা লাখের স্কেলে অবচেতন মন একই হিসাব করে থাকে। ১ কোটি ৯৯ লাখ শুনলে তা ২ কোটির চেয়ে অনেক কম মনে হয়। অথচ, যে ব্যক্তির লেনদেন-কারবার কোটির এককে, তার ক্ষেত্রে ১ লাখের ব্যবধান কিছুই না। 

এই যেমন আপনি হাতের ফোনটা স্ক্রল করে জামা খুঁজছেন। বিভিন্ন অনলাইন পেজে ঘুরেই চলেছেন। কোথাও একই জামা ১২০০ টাকা, আবার কোথাও সেটি ১০০০ টাকা। কিন্তু মূল্যের ঘরে ৯৯৯ টাকাও দেখতে পেলেন। অজান্তেই কি আপনার মনোযোগ ৯৯৯ টাকার অফারের দিকে চলে যাচ্ছে? এদিকে ১০০০ আর ৯৯৯ এর মধ্যে মাত্র এক টাকার পার্থক্য ,তবুও কেন আপনার মনযোগ সেই অফারের দিকে যাচ্ছে! গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে বা পন্যটিতে কিনতে প্রভাবিত করতে এই ধরনের মনস্ত্বাত্তিক খেলা হয়।  

আপনি স্বনামধন্য বা বহুল পরিচিত কোনো শো-রুমে গেলে দেখবেন অধিকাংশ পণ্যের দামের শেষে ৯ (নয়) রয়েছে। মূল্যগুলো অনেকটা এমন— ৯৯৯, ১৩৯৯, ১৪৪৯, ১৯৯৯। কিন্তু ৫০ বা ১০০ এর চেয়ে অর্থাৎ পূর্ণ সংখ্যার চেয়ে মাত্র এক টাকা কম কেন রাখা হয়? এই এক টাকার পার্থক্যকে ব্যবসায়িক ভাষায় 'চার্ম প্রাইসিং' বলা হয়। এই এক টাকা কম রাখার রহস্য চলুন জেনে আসি।  

পণ্যের মূল্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি

অনলাইন কিংবা সশরীরে বাজারে শপিং করার আগে প্রত্যেকেই একটা বাজেট চিন্তা করে। এ সময় গ্রাহকের যদি দুইটা জামা পছন্দ হয়, তার মধ্যে একটি সে নেয়ার চিন্তা করে যেটা তার বাজেটের মধ্যে আছে। এক্ষেত্রে কোনো পণ্যের মূল্য ২৯৯৯ অন্যটি ৩০০০ এমন। গ্রাহক তখন নিজের অজান্তেই ২৯৯৯ এর পণ্যটা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাববে। কেননা মানুষের চোখ বাঁ দিক থেকে ডান দিকে যায়। ফলে পণ্যটি গ্রাহকের কাছে ২০০০-এর ঘরের মনে হয়। চার্ম প্রাইসিংয়ের ফলে গ্রাহক পণ্যটিকে তার বাজেটের মধ্যে মনে করে। 

অল্প মূল্যে বিশেষ সেবা

যখন বিভিন্ন পেজে কিংবা ব্রান্ডেড দোকানে বিশেষ ছাড় দেয় সেসময় দেখা যায় অধিকাংশের পণ্যের দাম এর শেষের দিকে ৪৯, ৮৯, ৯৯ এমন থাকে। ফলে গ্রাহক এক টাকার পার্থক্য মনে না করে অফারের চিন্তা করে। তাই অফারের চিন্তা করে তারা পণ্যটির কেনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের দাম নির্ধারণের কৌশল ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে বিক্রি কয়েকগুণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সামান্য এক টাকায় বিশাল ব্যবসা 

এই এক টাকা রাখার পেছনে আছে ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা। অনেক দোকান এক টাকার পরিবর্তে এক টাকার চকোলেট ধরিয়ে দেয়। আবার অনেকে বলেন তাদের কাছে এক টাকা খুচরা নেই। গ্রাহক ও অনেকসময় এই এক টাকার জন্য অপেক্ষা না করে চলে আসে। একটা সময় পরে এই এক টাকার সঞ্চয় হয়ে দাড়ায় বড় একটা মুনাফায়। 

‘সার্চ ফিল্টার’ পদ্ধতি

ক্রেতারা অনলাইনে কিছু কেনার সময় বেশিরভাগ সময়ই মূল্যের একটা সীমার মধ্যে সার্চ করে। ধরুন ক্রেতা লিখলো ১০০০ টাকার নিচে জামা দেখাও। তখন সার্চ ফিল্টারের কারণে ১০০০ এর নিচের পণ্যগুলো সামনে আসে। প্রাইস চার্মিং হলো একটি কৌশলগত পদ্ধতি । এক্ষেত্রে পণ্যটির দাম ৯৯৯ রাখলে সেটা সার্চ ফিল্টারের জন্য ১০০০ এর নিচের ক্যাটাগরির মধ্যে পড়বে। যেখানে গ্রাহককে কৌশলে বোঝানো হয় পণ্যটি তার হাতের নাগালেই। 

সামান্য এক টাকার পার্থক্য পুরো ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপট বদলে দিতে পারে। ১ টাকার পার্থক্য সময় পেরিয়ে হয় কোটি টাকার মুনাফা। এখন আপনি ভাবুন তো এই নয় নয় এর খেলায় আপনি কতটুকু প্রভাবিত হয়েছেন? 

/এমএইচআর

Logo