×
Logo

জীবনযাপন

মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সুরক্ষায় যেসব খাবার খাবেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সুরক্ষায় যেসব খাবার খাবেন

মুখের ভেতরে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া শুধু দাঁত ও মাড়ির জন্য নয়, পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা কী খাই তার ওপর মুখের এসব অণুজীবের বড় প্রভাব রয়েছে।

মুখে প্রায় ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি রয়েছে। এর পাশাপাশি ভাইরাস, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবও থাকে। কিছু ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ সৃষ্টি করতে পারে। আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুকে মুখে বাড়তে বাধা দেয়।

যেমন স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউটান্স চিনিকে অ্যাসিডে পরিণত করে। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং শেষ পর্যন্ত দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ভেইলনেলা, অ্যাক্টিনোমাইসিস, কিছু স্ট্রেপ্টোকক্কাস এবং নাইসেরিয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া সুস্থ রাখতে সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি খাওয়া উপকারী। কেল, পালং শাক, বিটরুট ও মূলার মতো খাবারে প্রচুর নাইট্রেট থাকে। মুখের নাইসেরিয়া ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রেট ব্যবহার করে। এর ফলে এমন একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়, যা রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

রসুনও উপকারী হতে পারে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের উপাদান দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

ফল, বিশেষ করে গাঢ় রঙের বেরিতে থাকা পলিফেনলও উপকারী। চায়ে থাকা পলিফেনল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে পারে এবং দাঁতের প্লাক তৈরি ঠেকাতে সাহায্য করতে পারে।

ক্র্যানবেরির জুসও দাঁতের প্লাকের বৃদ্ধি এবং ক্যাভিটি ও মাড়ির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে পারে। মধুতেও পলিফেনল রয়েছে এবং এটি প্লাক তৈরি ও ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

চিজ চিবানোরও কিছু উপকার রয়েছে। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ দিন প্রতিদিন গ্রানা পাদানো চিজ খাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের মুখে ক্ষতিকর স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউটানস ব্যাকটেরিয়া কমে এবং সুস্থ মুখে বেশি দেখা যায় এমন স্ট্রেপটোকক্কাস স্যাঙ্গুইনিস ব্যাকটেরিয়া বাড়ে।

চিজ চিবানোর সময় মুখে লালা বেশি তৈরি হয়। লালা দাঁত ও মুখ থেকে অতিরিক্ত চিনি সরাতে এবং মুখে তৈরি হওয়া অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।

এদিকে, চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় কম খাওয়া ভালো। কারণ এগুলো দাঁতের ক্ষয়কারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে।

এছাড়া, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটও সীমিত করা উচিত। যেমন সাদা পাউরুটি, ক্র্যাকার, বিস্কুট, কেক ও প্রেটজেল। মুখের ভেতর এসব খাবার সহজেই চিনিতে পরিণত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

/এএন



Logo