×
Logo

জীবনযাপন

ডিক্যাফিনেটেড না ফিল্টার, সুস্বাস্থ্যের জন্য বেছে নেবেন যে কফিটি

মায়িশা মালিহা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

ডিক্যাফিনেটেড না ফিল্টার, সুস্বাস্থ্যের জন্য বেছে নেবেন যে কফিটি

আধুনিক জীবনযাত্রার এক অন্যতম সঙ্গী হলো কফি। পরিক্ষার আগের রাতে ঘুমভাব কাটানো অথবা অফিসের কাজের মাঝে ক্লান্তিভাব দূর করতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ উষ্ণ কফি, এক নিমিষেই এনে দেয় প্রশান্তি। 

তবে, এই প্রশান্তির আড়ালে রয়েছে এক চিন্তা। সেটি হলো ক্যাফেইন। অনেকের ধারণা এই ক্যাফেইন দেহে আসক্তি হিসেবে কাজ করে এবং যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে কফিতে থাকা কিছু উপাদানের ভালো গুণের কথা। 

কফিতে থাকা বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মানবদেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মেদ কমানো এবং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও হ্রাস করতে সাহায্য করে সেগুলো।  

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাজারে পাওয়া সব কফিই কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? চলুন জেনে নেই কোন কফিটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। 

ইনস্ট্যান্ট কফি:

খুব দ্রুত কিংবা ব্যস্ত সময়ে প্রশান্তির জন্য ঝটপট বানিয়ে ফেলার জন্য বেশ জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট কফি। এটি মূলত 'ফ্রিজ-ড্রাইং' বা 'স্প্রে-ড্রাইং পদ্ধতিতে কফির বীজ গুলো গুঁড়ো করে শুকিয়ে তৈরি করা হয়। এর মধ্যে 'ফ্রিজ-ড্রাইং' পদ্ধতিটি বেশ ভালো। কারণ, এই পদ্ধতিতে  খুব কম তাপমাত্রায় নির্যাসকে শুকানো হয় যাতে কফির প্রকৃত সুগন্ধ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বজায় থাকে। 

অনেকে মনে করেন যে, ইনস্ট্যান্ট কফিতে হয়তো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকে। তবে, বর্তমান সময়ে ধারনাটি ভুল। কেননা এটি যে পদ্ধতিতে বানানো হয়, সেখানে উপকারী পলিফেনল পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।

ক্যাফেইন মুক্ত (ডিক্যাফিনেটেড) কফি:

যারা কফি খেতে ভালোবাসেন কিংবা কাজের চাপে একটু প্রশান্তির জন্য ঘন ঘন উষ্ণ কফির প্রয়োজন বা যারা আসক্তির ভয়ে ক্যাফেইন এড়িয়ে যেতে চান তাদের পছন্দের তালিকায় ডিক্যাফ কফি থাকতে পারে পছন্দের তালিকায় প্রথমে। 

কফি বিন কাঁচা থাকা অবস্থায় থাকতেই এর ভেতরের ক্যাফেইন আলাদা করে এই কফিটি তৈরি করা হয়। এই কফিতে ক্যাফেইনের সেই সতেজতার ভাবটা না থাকলেও এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানবদেহের লিভার ও রক্তনালীকে সুস্থ রাখতে দারুণ কাজ করে।

ক্যাপসুল কফি: 

আমরা দোকানে বা অফিসে বা বাসায় যে মেশিনের কফি খাই তা ক্যাপসুল কফি হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে ক্যাপসুল নির্বাচনে একটু সচেতন হতে হবে। নিরাপদ স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সস্তা প্লাস্টিকের ক্যাপসুল নির্বাচন না করে, অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ভালো মানের ক্যাপসুলগুলো নির্বাচন করা উচিত। অন্যথায়, সস্তা ক্যাপসুল মেশিনের ভেতরে গরম পানির প্রচণ্ড চাপে নির্গত হওয়া অসংখ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা কফিতে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা পানের ফলে হরমোনজনিত রোগ, স্মৃতিভ্রমের (ডিমেনশিয়া) মতো সমস্যা হতে পারে। এই ক্যাপসুলটির মোড়কের ভেতরে থাকে মেশিন উপযোগী একদম আসল গ্রাউন্ড কফি।

ফিল্টার কফি:

কোলেস্টেরল বা হার্টের রোগীদের জন্য ফিল্টার কফি হতে পারে অন্যতম বিকল্প। কফিতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্য যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ফিল্টার কফি বেশ নিরাপদ। এটি সাধারণত কাগজের ফিল্টার দিয়ে ছেঁকে তৈরী করা হয়। ফলে এতে কোলেস্টেরল বৃদ্ধিকারী উপাদান গুলো কমে আসে।   

গ্রাউন্ড কফি: 

কফির প্রাকৃতিক স্বাদ পেতে চাইলে গ্রাউন্ড কফির কোনো তুলনা নেই। সাধারণত কফি গুঁড়ো করার পর, তা বাতাসের সংস্পর্শে এলে পুষ্টিগুণ ও স্বাদ কমে যায়। এজন্য কফি বানানোর আগে মেশিনে বীজগুলো গুঁড়ো (গ্রাউন্ড) করে নিলে কফিতে স্বাস্থ্যকর উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকে ।

ব্ল্যাক কফি: 

ব্ল্যাক কফিতে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। যেহেতু এই কফি ফিল্টার করা হয়না তাই এতে সামান্য ফ্যাটি উপাদান রয়ে যায়। তাই সাধারণ মানুষের জন্য এটি দারুণ প্রশান্তির এবং স্বাস্থ্যকর এই কফি। তবে, যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তাদের জন্য ব্ল্যাক কফির চেয়ে ফিল্টার কফিই বেশি পানযোগ্য।

তবে, কফি পানের ক্ষেত্রে বয়স এবং নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে কফি পছন্দ করা উচিত। কেননা প্রত্যেকের শারীরিক ক্ষমতা ভিন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া, যাদের শারীরিক জটিলতা আছে কিংবা যারা গর্ভবতী তাদের ক্যাফেইন জাতীয় জিনিস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

জেরুজালেম পোস্ট অবলম্বনে

/এনএ 

Logo