×
Logo

জীবনযাপন

কোপেনহেগেন থেকে জুরিখ, বিশ্বের সেরা ৫ বাসযোগ্য শহর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

কোপেনহেগেন থেকে জুরিখ, বিশ্বের সেরা ৫ বাসযোগ্য শহর

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে বসবাস করতে চায়। উন্নত জীবনযাত্রা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এসবই একটি শহরকে বসবাসের জন্য আদর্শ করে তোলে। কিন্তু সবাই কি সেই নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরিবিলি জীবন উপভোগ করতে পারে? 

তবে বিশ্বের কিছু দেশের বিশেষ কয়েকটি শহরের বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পান। এমনই একটি গবেষণা করেছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ সংস্থা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

২০২৬ সালে সংস্থাটি বিশ্বের ১৭৩টি শহরের স্থিতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয় মূল্যায়ন করে গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স অনুযায়ী একটি তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন।

এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভিয়েনা। এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে মেলবোর্ন, সিডনি ও জুরিখ। প্রতিটি শহরেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পাওয়ার কারণগুলোও তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

কোপেনহেগেন 

ব্যস্ততম জীবনে জ্যাম, ভিড়হীনভাবে চলাচলের প্রত্যাশা প্রত্যেক নাগরিকের স্বপ্ন বলা যায়। সেই স্বপ্নের বসবাসযোগ্য নগরীর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। শহরটি ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ধারাবাহিকভাবে বসবাসযোগ্যতার সূচকে ধরে রেখেছে প্রথম স্থান। এর পেছনে রয়েছে কম ব্যাক্তিগত গাড়ি। ফলে, শহরটিতে নেই জ্যাম এবং পরিবেশ দূষণ। যারা চাকুরী করেন তারা সাইকেল কিংবা সহজেই রেলের সাহায্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো ধরণের জটিলতা ছাড়াই সুন্দর-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারছেন শহরটির বাসিন্দারা।

ভিয়েনা

ভিয়েনা

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা টানা ৩ বছর প্রথম স্থানে থাকার পর, কোপেনহেগেনের কাছে হেরে ২০২৫ সালে ২য় স্থানে আসে। এবারও একই স্থানে রয়েছে শহরটি। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় শতভাগ সাফল্যের জন্য বসবাসযোগ্য সূচকে শহরটি ধরে রেখেছে নিজের অবস্থান। এছাড়া সেখানকার নাগরিকদের নেই সুপেয় পানির চিন্তা। পাশাপাশি, আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার প্রতিচ্ছবি। পর্যটকদের কাছে শহরটির কৃষকের বাজার (কুচারমার্কেট) এক জনপ্রিয় গন্তব্য। 

মেলবোর্ন

মেলবোর্ন

সংস্কৃতি ও সু-আবাসন পরিকল্পনার জন্য সুপরিচিত অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর মেলবোর্ন। যার অবস্থান পৃথিবীর বাসযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয়। এই শহরের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, খাবার, সঙ্গীত, ফ্যাশন এবং শিল্প। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এটি অনেকটা গ্রামের মত। শহরের বিখ্যাত পর্যটন স্থানের মধ্যে রয়েছে স্টেট লাইব্রেরির গম্বুজাকৃতির পাঠকক্ষ, হোসিয়ার লেনের সদা পরিবর্তনশীল স্ট্রিট আর্ট এবং ন্যাশনাল গ্যালারি অফ ভিক্টোরিয়ার মতো বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। 

সিডনি

সিডনি 

মেলবোর্নের পরে চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আরেক বিখ্যাত শহর সিডনি। সিডনির সাফল্যে প্রকৃতির অবদান অতুলনীয়। প্রকৃতির অমূল্য সংস্পর্শই সিডনিকে সেরা বসবাসযোগ্য শহরগুলোর একটি করে তুলেছে বলে মনে করেন শহরটির বাসিন্দারা। 

জুরিখ

জুরিখ

সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় শহর জুরিখ তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপনের জন্য বসবাসযোগ্য সূচকের পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। এর জনপ্রিয়তা পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো শহরটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেকগুলো হ্রদ। এছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিশ্ব ব্যাংকিং ও প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে রয়েছে জুরিখ। 

/এমএম/এনএ 

Logo