×
Logo

জীবনযাপন

যেসব উপায়ে শিশুদের সবজি খাওয়াতে পারেন

মায়িশা মালিহা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

যেসব উপায়ে শিশুদের সবজি খাওয়াতে পারেন

শিশুদের খাবার খাওয়ানো অনেক মায়ের কাছেই যেন এক রীতিমতো যুদ্ধ। কখনও গান গেয়ে, কখনও গল্প শুনিয়ে, আবার কখনও কার্টুন দেখিয়ে বা আদর-আবদার করে সন্তানকে খাবার খাওয়াতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে জোরও করতে হয়। এরসঙ্গে যোগ হয় শিশুদের নানান বায়না। ধরুন, কখনও এই খাবার খাবে, তো আবার কিছুক্ষণ পর সেটা না খেয়ে অন্য কিছু খেতে চাইবে। সব মিলিয়ে সন্তানের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা মায়েদের জন্য প্রতিদিনেরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সাধারণ একটি শিশু ৬ মাস বয়স থেকে মায়ের দুধের পাশাপশি বাড়তি খাবার খেতে শিখে। সেগুলো হলো- মাছ, মাংস, ফল, শাকসবজি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের জীবনচক্র ও খাদ্যাভাস অনেকটাই ভিন্ন হয়। এমনকি তাদের স্বাদ নির্বাচন প্রক্রিয়াও বড়দের থেকে ভিন্ন।

আর অধিকাংশ শিশুদের শাকসবজি জাতীয় খাবার খেতে অনীহা দেখা যায়। এমনকি সেটা বড় হয়েও ধরে রাখে। মূলত, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অনীহা এবং শর্করা সুস্বাদু খাবারের প্রতি আগ্রহের কারণ হিসেবে দেখা যায়, জন্মের পর থেকেই মায়ের বুকের দুধের স্বাদের সাথে পরিচিত যা মিষ্টি হয়।

তাই যখন তারা বাড়তি খাবার খেতে শুরু করে তখন মায়েদের লক্ষ্য থাকে, কীভাবে বাচ্চাদের অনান্য বাড়তি খাবারে অভ্যস্থ করানো যায়। সেজন্য শিশুদের সুষম খাবার (শাকসবজি) খাওয়ানোর জন্য বিজ্ঞানীরা কিছু উপায় বের করেছেন। নিচে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। 

শাকসবজির সাথে পরিচয় করানো

ছোটবেলা (৫ বছরের মধ্যে) থেকে শিশুদের খাবারে বিভিন্ন শাকসবজি রাখতে হবে। এতে করে তারা ওই খাবারের সাথে পরিচিতি হতে শুরু করবে তেমনি আগ্রহও বাড়বে। যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটির বায়োসাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যারিয়ন হেদারিংটন বলেন, এই প্রক্রিয়া ১ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ৩-৪ বছরের শিশুদের চেয়ে দ্রুত কাজ করে।

ক্ষুধার শুরুতেই শাকসবজি

শিশুদের খাবারের তালিকা বাছাইয়ে মায়েদের সচেতন হওয়া জুরুরি। তারা মিষ্টি জাতীয় বা সুস্বাদু খাবার পছন্দ করে। সেজন্য সকালে খাবারের তালিকায় শর্করা বা মিষ্টি জাতীয় খাবার দেওয়ার আগে সবজি খেতে দিলে ৬০% শিশুরা সময় নিয়ে খাবে বলে জানা গেছে এক গবেষণায় জানা গেছে।

স্বাস্থ্যকর খাবার ভিন্ন পরিবেশনায়

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের খাবারের প্লেটে ভিন্ন পরিবেশনা থাকলে তাদের খাবারে প্রতি আগ্রহ কাজ করে। সেজন্য প্লেটে খাবার দেওয়ার সময় একটু সাজিয়ে কিংবা নিত্যদিনের বাহিরে অন্যভাবেও রান্না করে দিলেও তারা খেতে পছন্দ করে।

একসাথে বসে খাওয়া

শিশুরা সাধারণের চেয়ে বেশি পর্যবেক্ষণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেই পরিবার সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন সবাই একসাথে খাবারের টেবিলে বসে খায়, সেই পরিবারের শিশুদের আচরণগত অভ্যাস অনেকটা ভিন্ন হয়। তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, খাওয়ার অভ্যাস ভালো হয় এবং তারা সবজি ও ফলমূল বেশি খায়।

জোর নয় আগ্রহের সঙ্গে খাবার খাওয়ানো

কিছু মায়েরা শিশুদের খাবার নিয়ে অনেক জোর করে, মুখ ঠেসে ধরে খাওয়ায়। যেটি তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এজন্য স্বাস্থকর খাবার নিয়ে তাদেরকে শেখানো, খেলার ছলে খাওয়নোর মধ্য দিয়ে শাকসবজি বা স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হবে।

কেন শিশুদের জন্য শাকসবজি গুরুত্বপুর্ণ?

শিশুদের বাড়ন্ত বয়সে সঠিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। তেমনি আঁশযুক্ত খাবার যা বৃহদন্ত্রকে জীবাণুমুক্ত এবং পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও সবুজ শাকসবজি ,ফলমূল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি অবলম্বনে

/এসআইএন


Logo