×
Logo

আন্তর্জাতিক

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লায় ২ হাজার কিলোমিটারের সীমা তুলে নিলো ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লায় ২ হাজার কিলোমিটারের সীমা তুলে নিলো ইরান

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাল্লার ক্ষেত্রে স্বঘোষিত দুই হাজার কিলোমিটারের সীমা তুলে নিয়েছে তারা। শনিবার (৭ নভেম্বর) আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এই ঘোষণা দেন । খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে মোহেব্বি বলেন, আগের বিধিনিষেধটি তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ইরান শুধু কথায় নয়, বরং কাজেও এর সামর্থ্য দেখিয়ে দেবে। এর কয়েকদিন আগেই, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করেই দেওয়া হবে।

নতুন করে পুরোদস্তুর যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই দূরপাল্লার মিসাইল তৈরির এই ইঙ্গিত দিল ইরান, যার আওতাতে গ্রিসের কিছু অংশ থেকে শুরু করে মিশরের বেশিরভাগ অংশও পড়েছে । এর আগে, গত মার্চে, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ায়, প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে মিসাইল হামলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ইরান।

এদিকে, পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন কংগ্রেস শপথ নেওয়ার আগেই অর্থাৎ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তার উপদেষ্টারা। ট্রাম্প এখনো বড় কোনো অভিযানের সিদ্ধান্ত না নিলেও গত শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ইতিমধ্যে একটি 'ছোটখাটো' সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চীনের মাধ্যমে ইরানের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।

এছাড়া ইরানের উন্নত অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচার রোধে 'টাস্কফোর্স আয়রন গেট' নামের একটি নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মূলত, স্থলসীমান্ত এবং কাসপিয়ান সাগর দিয়ে ইরানের অবৈধ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি আমদানি ঠেকানোর লক্ষ্যে কাজ করবে এই টাস্কফোর্স।

সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত এই পদক্ষেপ ইরানের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, মার্কিন নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান গত এক বছরে রাশিয়া, মধ্য এশিয়া ও চীন থেকে অন্তত ২০০ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক আমদানি করেছে।

/এসএম/এআই 

Logo