যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গণবিবাহের আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত গাজায় ৫০০ যুগলের গণবিয়ের আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজা মেরিটাইম ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে নবদম্পতিদের পাশাপাশি তাদের স্বজন ও হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও দুর্ভোগের মধ্যে এই আয়োজন ফিলিস্তিনিদের জন্য আনন্দ ও আশার এক বিরল উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
আমিরাতের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন নাইটলি নাইট ৩’-এর আওতায় এ গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। গাজার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে নানা সংকট ও পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের মধ্যেও গাজায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে আমিরাত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গারগাশ বলেন, বিশ্বের মনোযোগ যখন বিভিন্ন ঘটনা ও সংকটের দিকে সরে যাচ্ছে, তখনো গাজা ও সেখানকার মানুষ আমিরাতের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে রয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘বিশ্ব যখন নানা ঘটনা ও সংকট নিয়ে ব্যস্ত, তখনো গাজা ও সেখানকার মানুষ আমিরাতের হৃদয়ে এবং দেশটির মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে। দুর্ভোগের মধ্যেও 'অপারেশন নাইটলি নাইট-৩' পাঁচশ নবদম্পতি ও তাদের পরিবারের জন্য আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেছে। এটি আবারও প্রমাণ করেছে, মানবিক সহায়তা কেবল মানুষের কষ্ট লাঘবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং সুন্দর আগামীর আশা ফিরিয়ে দেওয়াও এর অংশ।’
বিশ্ব পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তন আমিরাতের মানবিক সহায়তার অঙ্গীকারে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান গারগাশ।
তার ভাষায়, ‘আমিরাতের মানবিক সহায়তার অঙ্গীকার একটি মহৎ ঐতিহ্য এবং অবিচল নীতি। সংবাদ শিরোনাম কিংবা বিশ্বের পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে এই নীতি পরিচালিত হয় না।’
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি ফাউন্ডেশন ফর চ্যারিটি অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্ক। অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক ভিডিওবার্তায় ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আহমেদ সুফা আল জাবি প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাকর আল কাসিমির পক্ষ থেকে নবদম্পতিদের অভিনন্দন জানান।
তিনি নবদম্পতিদের সুখী জীবন এবং গাজার সংঘাত ও দুর্ভোগমুক্ত ভবিষ্যৎ কামনা করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর প্রতি আমিরাতের সংহতি ও সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে হাজারো মানুষ বিয়ের শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। পরিবার, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে নবদম্পতিরা আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত গাজায় এমন আয়োজন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এনে দেয় স্বস্তি ও আনন্দের কিছু মুহূর্ত।
/এআই