×
Logo

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের নাকচ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম

নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দায়িত্ব ছাড়তে পারেন— এমন খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ অবস্থান জানায় প্রশাসন।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্যও এই যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর দাবি উঠেছে।

এমনকি কংগ্রেস থেকে বিদায় নিতে যাওয়া এক রিপাবলিকান সদস্য আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব তোলার হুমকি দিয়েছেন। তবে নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে এবং অভিশংসনের উদ্যোগের সমালোচনা করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, তারা আমাকে আক্রমণ করছে, আমাদের আক্রমণ করছে। কারণ, আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমরা পিছু হটব না।’

অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন— এমন খবরও অস্বীকার করেছেন মার্কো রুবিও। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত তার প্রশাসনে কাজ করাই সব সময় তার পরিকল্পনা ছিল।

রুবিও বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি।’ পদ ছাড়ার গুঞ্জন নিয়ে হাস্যরস করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা যখন বলে, তিনি চাকরি ছাড়তে যাচ্ছেন, তখন আমি সব সময় হাসি। ভাবি, কোন চাকরিটি?’

চলতি সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর রুবিও দায়িত্ব ছাড়তে পারেন— এমন প্রতিবেদনও নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। উভয় পক্ষই এসব খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছে।

তবে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি। ইরান যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। নির্বাচনের ফলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— উভয় কক্ষেই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

এবিসি নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেগসেথকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন। তবে তাকে দায়িত্বে রাখার ‘পূর্ণ ইচ্ছা’ রয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও হেগসেথের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’ এ সময় হেগসেথের সাফল্য হিসেবে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং বর্তমানে নবম মাসে গড়ানো ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

তবে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট  জানিয়েছে, হেগসেথের পাশাপাশি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিংবা সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও সরানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প। আট মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই দুই সামরিক কর্মকর্তার।

এদিকে, ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পলিটিকোকে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি সতর্ক করে বলেন, জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া উচিত প্রেসিডেন্টের। তার ভাষ্য, ‘সিনেটে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ থাকতে থাকতেই প্রেসিডেন্টের এটি করা উচিত।’

এদিকে, টেনেসির একটি শূন্য সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ রয়েছে হেগসেথের— এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।

নিজের ভিডিও বার্তায় অভিশংসনের উদ্যোগকে ‘ভিত্তিহীন অভিশংসন প্রস্তাব’ বলে আখ্যা দেন হেগসেথ। তার ভাষায়, একজন ‘হতাশ ও পরাজিত কংগ্রেস সদস্য’ এবং তার ডেমোক্র্যাট মিত্ররা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় প্রতিরক্ষা দফতর কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও তুলে ধরেন তিনি।

হেগসেথের দাবি, তার নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্যভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিলের কাজ হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের নীতিগুলো কাজ করে না। তাই ক্ষমতার নামে রাজনৈতিক নাটক সাজানোর প্রতি তাদের এই আসক্তি প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাতে প্ররোচিত করছে। পুরো বিষয়টিই ব্যক্তিগতভাবে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার রাজনীতি।’

/এনএ 


Logo