জর্জিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর জন অসফ। রিপাবলিকান প্রার্থী ও কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্সকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল এই আসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কলিন্সের বিরুদ্ধে প্রচার চলাকালে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
অন্যদিকে, অসফের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
কলিন্স তার প্রচারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
২০২১ সাল থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জন অসফ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম ইহুদি সিনেটর তিনি। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও চার বছর পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়। এমন একটি অঙ্গরাজ্যে অসফকে হারানো রিপাবলিকানদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অসফের নাম আলোচনায় রয়েছে। তার পুনর্নির্বাচনের ফলে জর্জিয়ার আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নকের সঙ্গে আবারও সিনেটে কাজ করবেন তিনি। জর্জিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর ওয়ার্নকও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জর্জিয়ার সিনেট আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যই ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অসফ ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্স পেয়েছিলেন ২৯ শতাংশ ভোট।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় অল্প ব্যবধানে জয় পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, ২০২০ সালে, অঙ্গরাজ্যটিতে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি।
২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর জর্জিয়ার ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২০২৩ সালে ট্রাম্পসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পের পক্ষে ফল পুনর্গণনার জন্য অঙ্গরাজ্যের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
/এআই