তিন দশক পর সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশনের সমাপ্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
তিন দশকের বেশি সময় পর সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দুই বছরের রূপান্তর প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিশনটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। খবর আরব নিউজের।
১৯৯৫ সালে সোমালিয়ার জন্য জাতিসংঘের রাজনৈতিক কার্যালয় (ইউএনপিওএস) হিসেবে মিশনটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনএসওএম প্রতিষ্ঠা করে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, ইসলামপন্থী সংগঠন ও অপরাধী চক্রের সংঘাতের পর দেশটিতে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সোমালি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
২০২৪ সালের মে মাসে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ মিশনটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বন্ধ করার অনুরোধ জানান। ওই বছরের অক্টোবরে মিশনটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে তিনি দুই বছরের রূপান্তরকাল নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
এই সময় মিশনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাতিসংঘের ট্রানজিশনাল অ্যাসিসট্যান্স মিশন ইন সোমালিয়া (ইউএনটিএমআইএস)।
জাতিসংঘের মহাসচিবের সোমালিয়াবিষয়ক উপবিশেষ প্রতিনিধি ও ইউএনটিএমআইএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রেইসডন জেনেঙ্গা এক বিবৃতিতে বলেন, আজ জাতিসংঘ ও সোমালিয়ার অংশীদারত্বের সমাপ্তি নয়। বরং এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা।
তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সোমালিয়ার পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা শুরুর সময়ের তুলনায় দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
মিশনটির দায়িত্বগুলো সোমালিয়ার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের দেশীয় দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব এখনও মধ্য সোমালিয়ার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। গত দুই দশক ধরে গোষ্ঠীটি দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
তবে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় আল-শাবাববিরোধী লড়াই বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস মিশনে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ায় সামরিক অভিযানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, আগামী বছরের মে মাসে সোমালিয়ায় পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, দেশটিতে চলমান নিরাপত্তাহীনতা এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মতবিরোধ নির্বাচন আয়োজনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
/এএন