×
Logo

আন্তর্জাতিক

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা: ‘বিভ্রান্ত ও ব্যথা’ নিয়ে জেগে উঠেছিলেন ক্রিস্টা পাইক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা: ‘বিভ্রান্ত ও ব্যথা’ নিয়ে জেগে উঠেছিলেন ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়েছিল ক্রিস্টা পাইকের ওপর। তবে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার মৃত্যু না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান ৫০ বছর বয়সী এই নারী।

সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে তাকে। গত মাসের, শেষ দিকে, আবারও কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সেই ব্যর্থ প্রচেষ্টার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, ওই রাতের পর থেকে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেই কাটছে তার প্রতিটি মুহূর্ত।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাইক বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার রাতটির পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ব্যথামুক্ত থাকতে পারেননি তিনি। শরীরের বিভিন্ন অংশে তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি কথা বলতেও এখনো কষ্ট হচ্ছে তাঁর।

নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে পাইক বলেন, ‘সেই রাতের পর থেকে এমন একটি মুহূর্তও যায়নি, যখন আমি ব্যথায় কষ্ট পাইনি। আমার শরীর ব্যথা করছে। বাহু, হাত ও গলায় ব্যথা রয়েছে। এখনো কথা বলতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর এই যন্ত্রণা শুধু শারীরিক নয়, আমার মনেও ব্যথা রয়েছে।’

গত সেপ্টেম্বরে পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। 

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন পাইক। তার নিউমোনিয়া হয়। এমনকি, খাবার গিলতেও পারছিলেন না তিনি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত মাসের শেষ দিকে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় পাইককে।

তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে জানিয়ে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি সেরে উঠছি এবং জানি, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছি। কিন্তু সুস্থ হয়ে ওঠার অর্থ এই নয় যে আমি ভালো আছি। সেই রাতের পর জীবন কেমন হবে, তা নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি। যে অবহেলার কারণে অনেক মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে, পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক এবং আরেক সহযোগীকে নিয়ে তারা ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।

তিনজনই নক্সভিলের একটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সহপাঠী ছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পাইক তার প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে স্লেমারের সম্পর্ক নিয়ে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতেন।

হত্যাকাণ্ডটি সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তদন্ত ও বিচারকাজে উঠে আসে, হত্যার পর ভুক্তভোগীর বুকে 'পেন্টাগ্রামের' আকৃতি খোদাই করা হয়েছিল এবং তার মাথার খুলির একটি অংশ 'স্মারক' হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পাইক ও শিপ হত্যার কথা স্বীকার করেন। ১৯৯৬ সালে, দু'জনকেই ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও শিপকে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন হত্যার সময় ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি অন্য দু'জনের জন্য পাহারায় ছিলেন এবং পরে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাকে প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়।

/এআই 

Logo