×
Logo

আন্তর্জাতিক

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আপত্তি, জি-২০ সম্মেলনে বাতিল ‘ফ্যামিলি ফটো’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আপত্তি, জি-২০ সম্মেলনে বাতিল ‘ফ্যামিলি ফটো’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে 'জি-২০' পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ছবি বা ‘ফ্যামিলি ফটো’তে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউরোপের কয়েকটি দেশের কূটনীতিক। এর জেরে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত ছবিটি বাতিল করেছে সম্মেলনের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তোলার কথা ছিল ছবিটি। 'জি-২০' সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাধারণত এ ধরনের আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা হয়। তবে কূটনৈতিক আপত্তির মুখে ছবিটি বাতিলের বিষয়টি বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন দুই কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও'র আয়োজনে, অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের 'জি-২০' পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক। 

সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের আপত্তি পরিস্থিতিকে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে নিয়ে যায়।

সম্মেলনে, বক্তব্য দিতে গিয়ে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সরাসরি মন্তব্য করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। 

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে কে আগ্রাসী, তা আমরা সবাই জানি।’ ইউক্রেনে নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য রুশ সরকারকে দায়ী করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

'জি-২০' পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে মিলিব্যান্ড বলেন, ইউক্রেনে, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদস্য দেশগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ ক্ষতি অব্যাহত রেখেছে। এতে হাজারো নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, বাড়ছে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা।

মিলিব্যান্ড আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধ শুধু ইউরোপ বা ন্যাটোর জন্য পরীক্ষা নয়; বরং আমাদের সবার জন্যই এটি একটি চ্যালেঞ্জ। পুতিনের এই বর্বর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থের জোগান বন্ধ করতে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগে আমাদের সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে।’

ইউক্রেন 'জি-২০'-এর সদস্য না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ জোটের বিভিন্ন বৈঠকে দেশটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এবারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে বিবিসিকে যুক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রুশ মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ না রাখার দীর্ঘদিনের নীতি অনুসরণ করছে যুক্তরাজ্য। সেই অবস্থান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চলতি মাসে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে এ বিরোধ দেখা দেয়।

ফ্যামিলি ফটো বাতিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল যৌথ ছবিতে অংশ নিতে অনিচ্ছুক, এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরই ছবিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি আনুষ্ঠানিক ছবির আয়োজনকে কূটনৈতিক মনোযোগের বিচ্যুতির কারণ হতে দেওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ছবিটি না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বৈঠকের মূল আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হবে।’

অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছুটা উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রুশ ডিজেল আমদানির একটি চুক্তিতেও সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন।

আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে কয়েক মাস ধরে চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এই সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করেছে ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা। জেলেনস্কি চুক্তিটিকে পুতিনের জন্য ‘উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

তার মতে, এটি এমন একটি যুদ্ধে বিনিয়োগের শামিল, যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত নয়, বরং বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর থেকে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। 

তার দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার টেবিলে মস্কোকে ধরে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়া চলতি বছরের শুরুর দিকে ডিজেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত মস্কো।

এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ইউক্রেনের কাছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে নিজেদের আকাশসীমা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় ইউক্রেনের জন্য এসব ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে মস্কো। ফলে যুদ্ধের ময়দানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

/এআই 

Logo