×
Logo

আন্তর্জাতিক

মার্কিন নম্বরে সরাসরি ফোন সংযোগের ক্ষেত্রে চীনা টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নিষিদ্ধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

মার্কিন নম্বরে সরাসরি ফোন সংযোগের ক্ষেত্রে চীনা টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নিষিদ্ধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও প্রতারণামূলক স্বয়ংক্রিয় ফোনকল (রোবোকল) ঠেকাতে চীনের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় দেশটির ফোন নম্বরে চীনা টেলিকম কোম্পানিগুলোর সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। 

প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য, আগামী ১৯ নভেম্বর, ভোটাভুটির আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এফসিসি জানিয়েছে, চীনের তিন বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান: চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম ও চায়না ইউনিকমসহ অন্যান্য ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) প্রযুক্তিনির্ভর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে কমিশনে ভোট হবে।

ইন্টারনেট প্রটোকলভিত্তিক সেবার মধ্যে রয়েছে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি)। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠস্বর ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তরিত হয়ে ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছায়। 

টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফোন নম্বরে সরাসরি প্রবেশাধিকার তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নত টেলিযোগাযোগ সুবিধা দেওয়াও সহজ হয়।

এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও অবৈধ স্বয়ংক্রিয় ফোনকলকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর আরও শক্তিশালী হবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ তুলেছে বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘চীন এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত সম্প্রসারিত করছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’

তিনি আরও বলেন, চীনের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

চীনা টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শুধু ফোন নম্বরে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধ করেই থামতে চাইছে না এফসিসি। 

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে এমন আইপি-ভিত্তিক সেবাদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

এক্ষেত্রে চীনের হুয়াওয়ে ও জেডটিই'র মতো প্রতিষ্ঠানের তৈরি যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারীদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বিবেচনা করছে এফসিসি।

এছাড়া ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক পণ্য পরীক্ষার কাজে চীনের সব পরীক্ষাগারকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি ফোন নম্বর ব্যবহারের অনুমোদনও বাতিল করতে পারে সংস্থাটি।

এর আগে, চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম ও চায়না ইউনিকমকে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

এবার এসব প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপন এবং দেশটিতে ডেটা সেন্টার পরিচালনার সুযোগ বন্ধের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। গত জুনে চায়না ইউনিকম সতর্ক করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ তথ্য ও অবকাঠামোয় চীনের প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বেড়েছে।

২০২৪ সালের শেষ দিকে, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, ‘সল্ট টাইফুন’ নামে পরিচিত চীনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি গোষ্ঠী দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। 

গোষ্ঠীটি গ্রাহকদের ফোনকলের রেকর্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলসংক্রান্ত তথ্য চুরি করার পাশাপাশি দেশটির টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোতেও প্রবেশ করেছিল বলে জানায় ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই চলতি বছর জানিয়েছে, সল্ট টাইফুনের হুমকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি; বরং তা অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া গত জুলাইয়ে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ডিজিটালসিস্টেম টেকনোলজিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করে এফসিসি। 

চীনা টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং একজন চীনা নাগরিকের মালিকানাধীন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে চীনের পক্ষ থেকে বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ মূলত দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দমনের প্রচেষ্টা। 

/এআই 

Logo