পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন। সেখানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর বাইরে বের হতেই পুলিশ তাকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংস্থা তৈরি করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দুর্গাপূজা দেখানোর নামে বিপুল পরিমাণ টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এই টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও সিলমোহর ভাঙানো হয়।
কলকাতার প্রধান ২৪টি পূজামণ্ডপকে বেছে নিয়ে বলা হয়েছিল যে, নির্দিষ্ট এই টিকিট মূল্য ১৮০০ থেকে সাড়ে ৪ টাকা। এমনকি শর্ত দেওয়া হয়, কোনো কোনো টিকিট ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটলেই কেবল প্যান্ডেলে ঢোকা যাবে, অন্যথায় সাধারণ মানুষ পুজোর ৪ দিন সেই মণ্ডপগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না। এই ‘মাস আর্ট’ সংস্থার প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন।
ইডি'র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অকটেভ রেকর্ডস’ নামক সংস্থায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই ৩০ লাখ টাকা স্থানান্তরিত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। এ বিষয়ে ইডি প্রশ্ন করলে ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেন যে রয়্যালটি বাবদ ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল।
এছাড়াও, মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তার দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটির বেশি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সেই ঘনিষ্ঠদের মাধ্যম থেকে টাকা ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় ঘুরে নগদ তোলা হয়।
উল্লেখ্য, এই দুর্নীতির সূত্রপাত ঘটে গত ৮ জুন, যখন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে আর্থিক প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এই গ্রেফতার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
/এএ/এমএইচআর