দ. চীন সাগরের বিতর্কিত শোলের আশপাশে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি, নজরদারিতে চীন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত শোলের আশপাশে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
চীনের সামরিক বাহিনীর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়াই ওই এলাকার জলসীমায় প্রবেশ করায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির ওপর নজরদারি চালাতে নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ তথ্য জানায় চীনের সামরিক বাহিনী।
চীনের দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘চার্লসটন’, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোরে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোলসংলগ্ন জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ জন্য চীনা সরকারের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে বেইজিং।
চীনের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা। চীনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটির গতিবিধি অনুসরণ ও নজরদারি করতে তাদের নৌবাহিনীকে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে চীন। তবে একই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিরোধে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা বিশেষভাবে বেড়েছে।
সাবিনা শোল স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের অংশ। এলাকাটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে সামুদ্রিক আধিপত্য ও জলসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা অভিযান’ বা ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশনস শব্দটি ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং অতিরিক্ত সামুদ্রিক দাবি চ্যালেঞ্জ করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সর্বশেষ পরিচিত অভিযান হয়েছিল এক বছরেরও বেশি সময় আগে।
গত মাসেও, সাবিনা শোলের কাছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জ্বালানি নিতে যাওয়ার সময় ফিলিপাইনের একটি নৌযানের সঙ্গে চীনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে চলমান সামুদ্রিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। ফলে দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের বিরোধ শুধু আঞ্চলিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থও জড়িত।
সাবিনা শোলসহ পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীন ও ফিলিপাইন উভয়ই দাবি করে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হওয়ায় দক্ষিণ চীন সাগরের এ বিরোধ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
/এআই