×
Logo

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে তোপের মুখে ম্যাক্রোঁ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে তোপের মুখে ম্যাক্রোঁ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে ফ্রান্সে গড়ে ওঠা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলন দমনে পুলিশের ব্যাপক বলপ্রয়োগ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। আগামী মে মাসে ক্ষমতা ছাড়তে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদের শেষ মাসগুলো এই সহিংস অস্থিরতা ও গণআটকে ঢাকা পড়েছে। ইউরোপের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার; উল্টো পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নে আহত কিশোর শিক্ষার্থীদের স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।

গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যার সিংহভাগই ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে স্কুলের পরিবেশ উন্নয়ন ও বাজেট বাড়ানোর দাবিতে স্কুল অবরোধ ও মিছিল শুরু করেছিল কিশোররা। তবে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে মুখোশধারী কিছু উগ্র দল সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সংঘর্ষে ৯০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান, স্ট্রোব লাইটযুক্ত শিল্ড, গ্রেনেড ও রায়ট-কন্ট্রোল প্রজেক্টাইল (রাবার বুলেট সদৃশ অস্ত্র) ব্যবহার করছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানান, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী ১৮ হাজারের বেশি বার বিভিন্ন রায়ট-কন্ট্রোল সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে।

এর মধ্যে একটি শক্তিশালী গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সেটি ব্যবহার স্থগিত করা হয়। এছাড়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের চোখ আংশিক অন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অঙ্গহানি, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৬টি পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।

সরকারের ওপর কেবল সাধারণ নাগরিকরাই ক্ষুব্ধ নন, খোদ পুলিশ ইউনিয়নের ভেতরেও ঘটেছে ক্ষোভের বিস্ফোরণ। প্যারিসের পুলিশ ইউনিয়ন ‘অ্যালায়েন্স’ সরকারের বিরুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে আইনি মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউনিয়নটির প্রতিনিধিরা জানান, দাঙ্গা দমনে অপ্রশিক্ষিত সদস্যদের কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক পোশাক ছাড়াই পাঠানো হচ্ছে, যা আতশবাজি ও পেট্রোল বোমার সামনে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসা অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী নির্দেশনার কারণে পুলিশ সদস্যরা মাঠে নিজেদের 'বিচ্ছিন্ন, প্রতারিত ও পরিত্যক্ত' মনে করছেন।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের বিশেষজ্ঞ সেবাস্তিয়ান রোশে অভিযোগ করেন, সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী বিক্ষোভ দমনের মাত্রা ঠিক করে। এর আগে প্রভাবশালী কৃষক আন্দোলনকারীরা সড়কে আগুন দিলেও তাদের প্রতি নমনীয় ছিল পুলিশ, অথচ বাজেট সংকটে থাকা স্কুলের কিশোরদের ক্ষেত্রে পুলিশ চরম কঠোর রূপ দেখাচ্ছে। টানা বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের জনসমর্থন আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

(সূত্র: এপি নিউজ)

/এনএ 

Logo