×
Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত এ বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিএনএন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে অভিযান সফল করতে বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, সম্ভাব্য বা বিদ্যমান সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তারা মন্তব্য করেন না। তবে ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সামরিক সংঘাত আবারও তীব্র হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা অথবা ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন’ করার মধ্যে বড় একটি সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

কী এই ‘মাদার অব অল বম্বস’?

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হলো জিবিইউ-৪৩/বি (GBU-43/B), যা এমওএবি নামে পরিচিত। বোমাটির ওজন প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড বা ৯ দশমিক ৮ টন। এটি মূলত ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য তৈরি। লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি বাতাসে বিস্ফোরিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে বোমাটি।

২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো যুদ্ধে বোমাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কতটা কার্যকর?

ইরানের ক্ষেত্রে এমওএবি ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বোমাটি ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তু ও উন্মুক্ত সামরিক স্থাপনা ধ্বংসে কার্যকর হতে পারে। তবে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো ভূগর্ভের গভীরে অবস্থিত, শক্ত পাথরে সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করতে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এমওএবি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি বাঙ্কার-বাস্টার বোমা নয়। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সচল রাখতে এবং ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে জাহাজ চলাচল ঘিরে ইরানের হুমকি ও হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আলোচনায় এমওএবি ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বোমাটি ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

/এনএ 



Logo