×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৩, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৩, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ স্থাপনা

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে চালানো কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ হামলায় দেশটির রাজধানী কিয়েভ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ৩০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অন্তত ছয় লাখ মানুষ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি রাশিয়ার ‘প্রকাশ্য অবজ্ঞা’ বলে মন্তব্য করেছেন। খবর রয়টার্সের।

জেলেনস্কি জানান, কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ ও খারকিভ। হামলার পর অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

গত সপ্তাহে জ্বালানির রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মূল্য কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার ডিজেল তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন— দুই পক্ষই জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে মস্কো বা কিয়েভ, কোনো পক্ষই এ সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ‘হামলাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল এবং এর ব্যাপকতা ছিল প্রদর্শনমূলক। এর আগে রাশিয়া কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এমন প্রকাশ্য অবজ্ঞা দেখায়নি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘রাশিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে শক্তিশালী বলে মনে করে না।’

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও এর আশপাশের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং খারকিভের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা

ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করতে পেরেছে তাদের বাহিনী। দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অস্ত্রের ঘাটতি এ পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখছে।


শীতের আগমনের আগে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রুশ বোমাবর্ষণের জবাব দেওয়ার সীমিত উপায়গুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম বলে মনে করে কিয়েভ।

বুধবারের হামলায় ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় রেলওয়ের স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে জ্বালানির দাম, বিশেষ করে ডিজেলের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে তার শুরু করা যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ না হলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা দিতে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাজধানী কিয়েভে আগের এক রাতের হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো সতর্কবার্তা পায়নি ইউক্রেন। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করছে।

/এনএ 

Logo