আরামকোর প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২১ এএম
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর, ধাহরানে, এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটিতে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ'র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে হামলাটি কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে অবস্থানরত কর্মী-বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হুতিরা।
এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করে গোষ্ঠীটি। সানায় ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দেওয়া নির্দেশের পরই এ হুঁশিয়ারি আসে।
হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরই সানায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পরপরই সানায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী রাজধানীর আল-সাবাহ এলাকায় একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের হামলায় সানার ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া রাস ঈসা বন্দরে ইয়েমেনের তেল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন হোদেইদা প্রদেশের একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করেও আরও দুটি দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে তেল স্থাপনা এবং এর ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপো ব্যবহার করছে হুতিরা।
তবে সম্ভাব্য হামলার প্রভাব নিয়ে আগেই বক্তব্য দিয়েছিল ইয়েমেন অয়েল কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের তেল সংরক্ষণাগারগুলো খালি রয়েছে। ফলে সৌদি হামলা চালালেও তেলের মজুত কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।
তা সত্ত্বেও জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রলপাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইয়াহিয়া সারি জানান, সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছেন হুতি যোদ্ধারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরামকোর সদর দফতর, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শোধনাগার থেকেও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মঙ্গলবার।
হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় সেগুলো প্রতিহত করেছে সৌদি আরব। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়। তবে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩শ' জনের বেশি আহত হন। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবে ওই হামলা ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে। রোববার রিয়াদের বিমানবন্দরে আরেকটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
পরপর এসব হামলার পর সৌদি আরব ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম, এয়ার ইন্ডিয়া, ইতিহাদ, লুফথানসা, ডেল্টা, গালফ এয়ার ও কাতার এয়ারওয়েজ।
মঙ্গলবারও (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাজধানী রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনসহ আশপাশের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এসব হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
সৌদি আরবের মন্ত্রিসভা, মঙ্গলবার, এক বৈঠকে হুতিদের হামলার জন্য তাদের ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে সতর্ক করেছে।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, গোষ্ঠীটি ‘খুব খারাপ আচরণ করছে’। সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হস্তক্ষেপ করতে এবং সহযোগিতার আহ্বান জানাতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, আমার মনে হয়, আমি যা অনুরোধ করবো, তিনি তা-ই করবেন।’
/এআই