রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা বাতিলের দাবি ৬ মার্কিন সিনেটরের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সিনেটর। জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটি থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের সিনেটররা বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় মস্কোকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।
রোববার (স্থানীয় সময়) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ছয় সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনকে এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তাঁদের অভিযোগ, এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি প্রশাসন। এমনকি সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কোনো বিবৃতিও জমা দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে সিনেটররা বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আর্থিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ কারণে প্রশাসনকে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে।
স্বাক্ষরকারী চার রিপাবলিকান সিনেটর হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, নর্থ ক্যারোলাইনার থম টিলিস এবং ইউটার জন কার্টিস। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলের দুই সিনেটর হলেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহিন এবং কানেকটিকাটের রিচার্ড ব্লুমেনথাল।
রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর থম টিলিস বলেন, প্রশাসন রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে প্রেসিডেন্ট আইন অনুসরণ করছেন না—এমন যুক্তি তুলে ধরার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, রাশিয়াই এই যুদ্ধ শুরু করেছে। দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করে যুদ্ধ বন্ধ করার সুযোগও রাশিয়ার রয়েছে।
ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণা
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে তার একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে, আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও লেখেন, এরপর স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
তার এ ঘোষণায়, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিস্ময়-উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এর কয়েক সপ্তাহ আগেই, কংগ্রেসে এমন একটি আইন পাস হয়েছিল, যার আওতায় রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয় ট্রাম্পকে।
তবে রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে, এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে ছাড় রাখার বিধান রয়েছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য রাশিয়া যেন তেল-গ্যাস বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই কংগ্রেসের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সিনেটররা তাদের বিবৃতিতে আরও বলেন, ২০২২ সালে, কংগ্রেস স্পষ্টভাবে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সুযোগ তৈরি না হয়।
তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ এবং ন্যাটো মিত্রদের প্রতি হুমকি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি না করার বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট। ট্রাম্পের রুশ ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত সেই আইনের সরাসরি পরিপন্থী।
জ্বালানির দাম কমানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ট্রাম্প
এদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা মার্কিন আইন লঙ্ঘন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিপাবলিকান সিনেটর জন বারাসো বলেছেন, জ্বালানির ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ট্রাম্প।
সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে একইসঙ্গে, গত মাসে, কংগ্রেসে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইন কার্যকর করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান বারাসো। তার মতে, পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের জন্য আরেকটি দর-কষাকষির হাতিয়ার হতে পারে, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পেতে কাজে লাগানো সম্ভব।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের প্রভাবও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে ও কংগ্রেসে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
/এআই