সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও দিল্লিতে ধরপাকড়, আজও আটক শতাধিক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আটক না করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভকারীরা আবারও কনট প্লেস এলাকায় জড়ো হলে রোববার (১১ অক্টোবর) তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার নেতা জন ব্রিটাসও। এদিন প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে দুইটি বাসে তুলে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারী সন্দেহে একটি বার্গারের দোকান থেকে এক ব্যক্তিকেও টেনে বের করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের বলছেন, তিনি শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশের সঙ্গে যেতে চান না। পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এছাড়াও আর কে আশ্রম এলাকা থেকে অন্তত চার সাংবাদিককে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে, রোববার বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা নির্দেশ দেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ ছাড়া আটক করা যাবে না।
শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, গণহারে আটকের অভিযোগ, মানুষের চলাচলে বাধা এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধের বিষয়ে করা আবেদনের জরুরি শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় ৯ অক্টোবর দেওয়া আদালতের নির্দেশনা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সংযোগে কোনো বিঘ্ন না ঘটানো এবং মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জারি করা নোটিশ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে মানুষ বাধাহীনভাবে বিচার পাওয়ার সুযোগ পান।
পুলিশের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সাংবাদিকদের জন ব্রিটাস বলেন, পুলিশের এ আচরণ মৌলিক নিয়মকানুনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা মানুষের ওপর নির্মম শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই আন্দোলন যত কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করা হবে, তা ততই ব্যাপক আকার ধারণ করবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্দোলনকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এদিকে, শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ২০টির বেশি এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন) দায়ের করেছে পুলিশ। রোববার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগেও ২০টির বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
/এসআইএন