×
Logo

আন্তর্জাতিক

রয়টার্সের প্রতিবেদন

নেপালে ভূমিধসের পর নদীতে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

নেপালে ভূমিধসের পর নদীতে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫

নেপালে ভূমিধসের জেরে নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে দেশটির মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও অবকাঠামো ভেসে গেছে। 

এ ঘটনায় দুই নারী ও তিন পুরুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

রোববার (১০ অক্টোবর), দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরখা জেলার চুমনুব্রি এলাকায় ভূমিধসের জেরে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নদীর পানি উপচে ভাটির দিকে বন্যা দেখা দেয়।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন বিদেশিসহ অন্তত ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিকের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যায়, প্রায় এক ডজন বাড়ি এবং দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। এছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও পানির স্রোতে ভেসে যায়।

কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি জানান, বন্যার স্রোতে গোরখা জেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার সংযোগকারী একটি মহাসড়ক সেতুও ভেসে গেছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোরখা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বলেন, নদীর তীরবর্তী ভাটির এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পাঁচ জেলায় সতর্কতা জারি

বন্যার আশঙ্কায় গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, প্রয়োজন অনুযায়ী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি, হেলিকপ্টার থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আগের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি

গত আগস্টে, হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। ওই ঘটনায় ১ হাজার ৪৫৭ জন নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের সেই বিপর্যয়ের পর নতুন করে বন্যার ঘটনায় নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিখোঁজ পাঁচজনের সন্ধানে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

/এআই 

Logo