×
Logo

আন্তর্জাতিক

আরব নিউজের প্রতিবেদন

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার পর ইয়েমেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও বিমান হামলায় যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প বলেন, সৌদি বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলার খবর তারা মাত্রই পেয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।’

গত বুধবার থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার জবাবে, ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। 

শুক্রবার ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী জোট জানায়, হুতিদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ‘বড় পরিসরে অভিযান’ চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জোটটি।

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা বাড়িয়েছে জোটের বাহিনী। একই সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীও গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকাগুলো থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়াই এসব অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। গত মাসে ওই এলাকার কিছু ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় গোষ্ঠীটি।

বাব এল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এর আশপাশে হুতিদের অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ঘটনাও ঘটিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এই পরিস্থিতিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত বছর, লোহিত সাগরে কয়েক ডজন জাহাজে হুতিদের হামলার পর গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে আট সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিমান ও নৌ অভিযান চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সামরিক অভিযান। ওই অভিযানে হুতিদের রাডার ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

রিয়াদের বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার পর ইয়েমেনে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। 

তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/এআই 

Logo