×
Logo

আন্তর্জাতিক

ভারতে স্টারলিংক শুরুর পক্ষে মাস্ক

আম্বানিকে খোঁচা দিয়ে বললেন, ‘প্রতিযোগিতায় লাভবান হবেন সাধারণ মানুষ’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

আম্বানিকে খোঁচা দিয়ে বললেন, ‘প্রতিযোগিতায় লাভবান হবেন সাধারণ মানুষ’

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পক্ষে আবারও সরব হয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। তার মতে, দেশটির বাজারে স্টারলিংক প্রবেশ করলে ইন্টারনেট সেবায় প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর তাতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন সাধারণ গ্রাহকরা। 

একই সঙ্গে, ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে ঘিরে বিতর্কেও নতুন করে জড়িয়েছেন তিনি। আম্বানির সমর্থকদের বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক ও অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন মাস্ক।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। চলতি সপ্তাহজুড়েই ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু নিয়ে আম্বানির অবস্থানের সমালোচনা করে আসছেন মাস্ক।

মাস্কের যুক্তি, ভারতে স্টারলিংক, চালু হলে গ্রাহকদের সামনে ইন্টারনেট সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে আম্বানির ব্যবসায় মুনাফা কিছুটা কমতে পারে, তবে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় গ্রাহকদের কাছে স্টারলিংকের সেবার দাম বেশি মনে হলে তারা তা কিনবেন না। ফলে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে স্পেসএক্সকে সেবার মূল্য সাশ্রয়ী পর্যায়ে রাখতে হবে।

আম্বানির ইন্টারনেট ব্যবসার সমর্থকদের যুক্তির সমালোচনা করে মাস্ক বলেন, একদিকে তারা দাবি করছেন, আম্বানির একচেটিয়া বাজারে অত্যন্ত কম দামের সঙ্গে স্টারলিংক কোনোভাবেই প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। 

অন্যদিকে, তারাই আবার বলছেন, স্টারলিংক বাজারে এলে প্রতিযোগিতায় অন্যদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। মাস্কের ভাষায়, এ ধরনের বক্তব্য ‘অযৌক্তিক ও অতিরঞ্জিত’।

মাস্ক আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, প্রতিযোগিতা বাড়লে ভারতের সাধারণ মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হবেন। কারণ, এতে তাদের সামনে আরও বেশি বিকল্প তৈরি হবে, যা প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক সুফল। আম্বানির মুনাফা কমতে পারে, কিন্তু তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। আর ভারতে স্টারলিংকের সেবা বেশি ব্যয়বহুল হলে কেউ তা কিনবেন না। তাই স্পেসএক্সকে সেবার মূল্য সাশ্রয়ী করতে হবে।’

স্টারলিংক নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই, শনিবার (১০ অক্টোবর), মুকেশ আম্বানিকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ সামনে এনেছেন মাস্ক। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রচারে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি, রিলায়েন্স-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক অনুদান নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

মাস্কের শেয়ার করা প্রতিবেদনের একটি ছিল ২০২২ সালে আলজাজিরায় প্রকাশিত ‘হাউ আ রিলায়েন্স-ফান্ডেড ফার্ম বুস্টস বিজেপি’স ক্যাম্পেইনস অন ফেসবুক’ শিরোনামের প্রতিবেদন। 

এতে রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেসবুকে বিজেপির প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।

এছাড়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২০২৪ সালের একটি সংরক্ষিত প্রতিবেদনও শেয়ার করেন তিনি। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রিলায়েন্স-সংশ্লিষ্ট কুইক সাপ্লাই নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে ৩৮৫ কোটি রুপি এবং শিবসেনাকে ২৫ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগ নিয়ে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবা চালুর প্রক্রিয়ায় বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই আম্বানির সমালোচনা করে আসছেন মাস্ক। 

এর আগে, এক্সে একটি পোস্টে ব্যঙ্গাত্মকভাবে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা সুরক্ষার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে আম্বানি রাজি হবেন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছিলেন মাস্ক।

রিলায়েন্স ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার বাজারে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে স্টারলিংকের প্রবেশ দেশটির বিদ্যমান ব্যবসায়িক কাঠামোয় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে, ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রমে ‘কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বাধা দিচ্ছে’, মাস্কের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

বৃহস্পতিবার ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য দেশটিতে একটি ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’ অনুমোদন কাঠামো কার্যকর রয়েছে। এই নিয়ম বা এর প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছে মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিরপেক্ষ কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে সব টেলিযোগাযোগ সেবার জন্যই সরকার একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদনব্যবস্থা চালু রেখেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই কাঠামো কিংবা এর প্রয়োগ অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক, এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত’।

ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে মাস্ক-আম্বানির মধ্যে চলমান মতবিরোধের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে এই বিতর্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট খাতের প্রতিযোগিতার প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

/এআই  

Logo