আদালত থেকে মুক্তি পেলেন দিল্লিতে আটক সিজেপির তিন নেতা, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে আটকের একদিন পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও তার দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। রোববার (১১ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর এক বছর শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। একই দিন পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও।
মুক্তির পর রোববার দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এর আগে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর-মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ শীর্ষক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় দলটি।
বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। শুক্রবার রাত থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাতে শহরগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনও বাতিল করা হয়। পুলিশের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের কর্মসূচিতে দেওয়া শর্ত ভঙ্গের কারণে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না পেলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সিজেপির নেতারা।
এদিকে, শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌছানোর পর বিমানবন্দরে বিমানের ভেতর থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে মন্তব্য করেন অভিজিৎ। তার অভিযোগ, মোদি দেশের তরুণদের ভয় পান। বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে মেট্রো ও সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিজিৎ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। ভারতের সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদেও এ অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় নিজের বাসা থেকে ইউটিউবার ও রাজনৈতিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ না মানার অভিযোগে তাকে আটক করা হয় বলে জানানো হয়। পরে রোববার পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পান তিনি।
অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকে আটক হওয়ার পর বিক্ষোভের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন সিজেপির সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের যন্তর-মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
শিন্ডে বলেন, পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও আন্দোলন বন্ধ হবে না। তার ভাষায়, ‘পুলিশ আমাদের যেখানে থামাবে, সেখানেই আমাদের যন্তর মন্তর তৈরি হবে।’
এর আগে অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছিলেন, তাকে আটক করা হলে অজিঙ্কা শিন্ডে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।
একই আন্দোলনে সমর্থন জানাতে গিয়ে আটক হন মমতা ব্যানার্জি ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শনিবার দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসা অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ দলটির ছয় নেতাকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনও ছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটিকে গ্রেফতার হিসেবে উল্লেখ করে। দলটি প্রশ্ন তোলে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক করা কখন থেকে গণতন্ত্রের নিয়ম হয়ে গেল।
একই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নিজের বাসভবনের বাইরে থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, দেশের গণতন্ত্রকে দমন করার চেষ্টা চলছে। সিজেপির নেতাদের আটকের সমালোচনা করে তিনি পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার সময়ের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত চার হাজার বিক্ষোভকারীকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মমতা ব্যানার্জিসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর সিজেপির তিন নেতাকে মুক্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে শনিবারের ধরপাকড়ের ঘটনায় নতুন অগ্রগতি আসে। একই দিন ধ্রুব রাঠীর মুক্তির খবরও নিশ্চিত করেন পুলিশের কর্মকর্তারা।
মুক্তির পর দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সেখানে দলটির নেতারা বিক্ষোভ, আটকের ঘটনা ও পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে কী বলেন, সেদিকে নজর রয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার, বিরোধী নেতাদের আটক এবং পরে তাদের মুক্তির ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
/এনজেএস/এনএ