বিবিসি'র প্রতিবেদন
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ক্রিস্টা পাইক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক।
গত মাসের, শেষ দিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ইনজেকশন দেওয়া হলেও বেঁচে যান তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীদের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৩০ বছর ধরে যে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পাইক, সেখানেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে তাকে। বর্তমানে কারাগারেই তার চিকিৎসা চলছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার সময় দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে যান পাইক। এরপর তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে, জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। তার জ্ঞান ফিরে আসার ঘটনায় বিস্মিত হন চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ-হাসপাতালের কর্মী-তার আইনজীবীরা।
আইনজীবীরা বিবৃতিতে বলেন, 'এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যারা প্রথম সাড়া দিয়েছেন এবং চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।'
প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা বিরল। পাইকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তার আইনজীবীদের মতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হিসেবে পাইকই সম্ভবত একমাত্র।
এ ঘটনায় এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বুধবার আদালতের শুনানিতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়ার্স বিচারককে জানান, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তিনি জানেন না।
শুনানিতে, বিচারক, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশও দেন। ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন ক্রিস্টা পাইক। ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন-পিটিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর।
তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে হত্যা করেন পাইক। নিম্ন আয়ের তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের পরিচয় হয়েছিল বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার সময় প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন পাইক। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে মঙ্গলবার আবার কথা বলতে শুরু করেন তিনি।
তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর পাইকের প্রথম প্রশ্ন ছিল, 'আমি কোথায়?' এরপর তিনি জানতে চান, 'আপনি কে?'
হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেও পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ব্যর্থ প্রক্রিয়ার কারণ কী ছিল, আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না এবং এ ঘটনায় অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
/এআই