×
Logo

আন্তর্জাতিক

হঠাৎ কেন বিজেপির 'প্যানিক অ্যাটাক'?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

হঠাৎ কেন বিজেপির 'প্যানিক অ্যাটাক'?

ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকে যন্তর মন্তরে ঘোষিত এই সমাবেশকে ঘিরে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের ভেতরে স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ দেখা গেছে। আন্দোলন ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের পূর্বঘোষণা থাকলেও দিল্লি পুলিশ সমাবেশের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি। আন্দোলনকারীদের জমায়েত রুখতে প্রশাসন দিল্লি পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করে পুরো শহরকে কার্যত এক দুর্গে রূপান্তর করে। কাঁটাতার ও স্পাইক স্ট্রিপ বসিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে।

দিল্লিতে আটক করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের (কালিঘাট) সভানেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দিল্লিতে আটক করেছে পুলিশ। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ধর্নায় বসার পর আটক হয়েছেন মমতা।

এর আগে, শনিবার বিক্ষোভের শুরুতেই দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই প্লেন থেকে নামার সময় সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানানো জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা শুরুর প্রাক্কালে সিজেপির লিগ্যাল টিম প্রধান রত্না সিং এবং তার সহযাত্রী আইনজীবীদেরও পথ আটকে আটক করা হয়।

এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতরাত থেকেই শহরজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগের রাতে প্রায় ৬০০ জনকে আটকের পর শনিবার সহস্রাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। তাদের রাখার জন্য ছত্রশাল স্টেডিয়াম ও যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সসহ একাধিক ভেন্যুকে অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে কেন্দ্রীয় দিল্লির প্রায় ৪৬ থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ করে দেওয়ায় এবং বহু এলাকায় ট্রেন ও যান চলাচল সীমিত করায় সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়।

বিজেপির বাড়তি উদ্বেগের নেপথ্যে জুলাইয়ের স্মৃতি:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন শাসকদলের এমন ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বা বাড়তি সতর্কতার পেছনে রয়েছে জুলাই মাসের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। ভারতের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষা প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট ও ইউজিসি) নজিরবিহীন প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছিল সিজেপি। সেই তুমুল আন্দোলনের মুখেই শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করার সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণদের এক অপ্রতিরোধ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় সিজেপি। সেই আন্দোলনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে দলটির এই নতুন অভিযানে মোদি সরকার নতুন করে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে ব্যাপক দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব।

/এনএ 

Logo