শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই। বৈশ্বিক শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য এ স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
কমিটি জানায়, অসাধারণ সাহস, সততা ও নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এ বছরের নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনামলে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম পিল্লাইয়ের। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বর্ণবৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত হন তিনি। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেন।
পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি গণহত্যার অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত ঐতিহাসিক আইনি অগ্রগতিতেও অবদান রাখেন তিনি।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অহিংস উপায়ে সংঘাত নিরসনের ভিত্তি। ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অথচ বর্তমানে বিচারকেরা নিষেধাজ্ঞা ও আক্রমণের মুখে পড়ছেন, হুমকির মুখে রয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোও।
রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন পিল্লাই। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে। শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে তার অঙ্গীকার সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস।
/এসআইএন