ইরান যুদ্ধে ৮১ যুদ্ধবিমান-ড্রোন খুইয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত আট মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের তদন্ত ও অনুসন্ধান বিষয়ক পার্লামেন্টারি সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া এসব সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ অ্যাটাক এয়রক্রাফট বা আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান।
নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন খুইয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় ৩০ মিলিয়নের বেশি ডলার মূল্যের তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয়। এপ্রিলে ইরানের আকাশে যুদ্ধ অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়।
সিআরএসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্লেষণে গত ১৯ মার্চ ইরানের হামলার মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম প্রজন্মের একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি এই বিমানের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।
এছাড়া, এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল হামলার বিমান হারানোর পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে জর্ডানে হামলায় আরেকটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নিয়মিতই পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করে গেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
/এএম