যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে: জেডি ভ্যান্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
দীর্ঘ সাত মাসের যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন শর্ত পূরণ করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ কমাতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য উঠে আসে। একই সঙ্গে তেহরানের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে কারা নিচ্ছেন, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সংশয় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলাস্কায় নির্বাচনি প্রচারণা শেষে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে ভবিষ্যতের আশ্বাসের বদলে বাস্তবে সমৃদ্ধকরণ কমানোর প্রমাণ দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য না-ই থাকে, তবে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ জ্বালানির কী প্রয়োজন? পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর সদিচ্ছা দেখাতে চাইলে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ করাই এর মূল ভিত্তি। তারা আন্তরিক হলে সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার লাগাম টানতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একাধিক প্রস্তাবের আদান-প্রদান হলেও ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, আমেরিকা সমঝোতার পথ খোলা রাখলেও কেবল মৌখিক কথার বিনিময়ে কোনো চুক্তি করবে না। এর জন্য ইরানের কাছ থেকে পরমাণু কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট ছাড় প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স আরও জানান, ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে হোয়াইট হাউস দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। তবে যুদ্ধের শুরুতে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমান নেতৃত্বের ওপর এই দুজনের ঠিক কতটুকু নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানান, ওয়াশিংটন ভালোভাবেই জানে ইরানে তাদের প্রতিপক্ষ কারা এবং কীভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সমস্যা আসলে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও অস্পষ্ট বার্তার মধ্যেই নিহিত।
মাসিক প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয়ের এই যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে, যা আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি রাজনৈতিক দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভোটারদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়েও কথা বলেন ভ্যান্স। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান মাঝে মাঝে আক্রমণ চালালেও জ্বালানি রফতানি পুরোপুরি আটকে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।
/এনএ