×
Logo

আন্তর্জাতিক

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন

ফ্লাইদুবাই হামলার পর ইসরায়েলে বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ফ্লাইদুবাই হামলার পর ইসরায়েলে বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে সহকারী পাইলটের হামলার ঘটনার জেরে দেশটিতে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (৪ অক্টোবর) নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, শ্মুয়েল বেন এজরাকে, বিদেশি বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সব দিক খতিয়ে দেখতে একজন পরীক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত বুধবার, দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করার পর উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত করা।

ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো উঠেছে ইসরায়েলে। বিশেষ করে, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, এমন একটি দেশের নাগরিক, কীভাবে তেলআবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ইসরায়েলে, বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালিত ফ্লাইটের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব দেশটির বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের আওতাধীন।

২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছিল, ইসরায়েলে পরিচালিত বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব কার, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। বিষয়টি সমাধানে সরকারকে সুপারিশও করেছিল সংস্থাটি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে, দেশটির সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন দেশের পাইলটরা একাধিকবার ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।

এদিকে, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমানে বিরোধী দলের হয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী কেরেন টার্নার নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য মন্ত্রী রেগেভকে দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সরাসরি পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টার্নার বলেন, বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পরিবহনমন্ত্রীর; শিন বেত বা মোসাদের নয়। তার দাবি, সরকার ও আইন: দুই জায়গাতেই এ দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ঘোষিত নিরাপত্তা পর্যালোচনাকে ‘ভুয়া তদন্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি বলেন, ঘটনার আগে একের পর এক নিরাপত্তাগত ব্যর্থতা এমন একটি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত, যার পরিণতি ভয়াবহ মাত্রায় হতে পারত।

লাপিদ আরও অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্ত থেকে নেতানিয়াহু যেভাবে সরে গিয়েছিলেন, এবারও একইভাবে তদন্ত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে, নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও এ ঘটনায় পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এক্সে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর সরকারে পরিবহনমন্ত্রীর আগের রাতেই পদত্যাগপত্র দেওয়া উচিত ছিল।

/এআই 

Logo