জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন
ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার ইসরায়েলি যুবকের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ইরানের হয়ে গোপন মিশনে কাজ করার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এমনকি চ্যাটজিপিটিও ব্যবহার করতেন এক ইসরায়েলি যুবক। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগপত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
ইসরায়েলের হাইফা জেলা প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক, ইরানের এক হ্যান্ডলারের নির্দেশে, একাধিক গোপন মিশন পরিচালনা করেন।
এসব কাজের বিনিময়ে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থও পেয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের কর্মস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কেও ওই হ্যান্ডলারকে তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ খালাফ নামের ওই যুবক বাকা আল-গারবিয়া শহরের বাসিন্দা। তিনি একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগসহ গুরুতর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অস্থায়ী কাজের সন্ধানকারী ব্যক্তিদের জন্য তৈরি একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকেই খালাফের সঙ্গে ইরানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ শুরু হয়। সেখানে তিনি কুরিয়ার সংক্রান্ত একটি কাজের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। প্রথমে ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘থমাস’ এবং পরে ‘মার্টিন’ নামে পরিচয় দেন।
এরপর খালাফকে একাধিক কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার পর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কাজের কিছু সম্পন্ন করতে খালাফ এআইয়ের সহায়তা নেন এবং চ্যাটজিপিটির পরামর্শও নেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ইরানিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ৬ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত তাকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি হেফাজতেই রয়েছেন।
পুলিশ ও শিন বেতের জিজ্ঞাসাবাদে খালাফ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ইরানি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন মিশন পরিচালনা এবং অর্থ গ্রহণের বিষয়ও রয়েছে।
তদন্তে শিন বেত, ইসরায়েল পুলিশের লাহাভ ৪৩৩ সাইবার ইউনিট এবং আশের জেলা কেন্দ্রীয় ইউনিট যৌথভাবে কাজ করে। তদন্তকারীরা খালাফের মোবাইল ফোন থেকে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পূর্ণ কথোপকথন, মিশন সম্পন্ন করার ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগাযোগ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের নথিও তদন্তকারীরা পান বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইরানি হ্যান্ডলারের নির্দেশে, খালাফ একবার কিরিয়াত হাইমের একটি যন্ত্রপাতির দোকানের কাছে যান। সেখানে একটি গাছের নিচে ডালপালা ও পাতার আড়ালে লুকিয়ে রাখা একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন খুঁজে বের করেন। পরে হ্যান্ডলারের নির্দেশ অনুযায়ী ওই স্থানটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এ কাজের বিনিময়ে তিনি ১ হাজার ৫০ শেকেল পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর তিন দিন পর পারদেস হান্নার একটি মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ক্রিপ্টো ওয়ালেটের অর্থ উত্তোলন করেন খালাফ। এরপর ৩০০ শেকেল একটি খামে রেখে শা’আর মেনাশে মনোরোগ হাসপাতালের কাছে ডোর আলন গ্যাস স্টেশনের একটি শৌচাগারের লাইটের ভেতর তা লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের যোগাযোগ আড়াল করতে খালাফ ও তার হ্যান্ডলার একটি বিশেষ কৌশল ঠিক করেছিলেন। একটি অ্যাকাউন্টে তারা মিশনসংক্রান্ত আলোচনা করতেন। আর খালাফের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনুবাদের জন্য সাধারণ লেখা আদান-প্রদান করা হতো, যাতে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে দেওয়া অর্থকে সম্পাদনা ও অনুবাদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেখানো যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মকাণ্ড নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ। এ কারণে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের জন্য তাকে হেফাজতের বাইরে রাখলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আদালতে যুক্তি দিয়েছে প্রসিকিউশন।
খালাফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো প্রসিকিউশনের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
/এআই