১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়বে জি-সেভেন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন টালমাটাল দশা, তখন পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা নিলো জি-সেভেন। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল বৈঠক হয় জোট নেতাদের।
এতে সিদ্ধান্ত হয়, বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর। যার ফলে কৌশলগত মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়া হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা-আইইএর মাধ্যমে চার মাস ধরে সমন্বিতভাবে এই মজুত বাজারে ছাড়া হবে।
জি-সেভেনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়েও হয়েছে ঐকমত্য। জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে নিজস্ব শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার সমন্বয়ে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত মজুত থেকে সরবরাহ উন্মুক্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে সংস্থাটি বৈঠকে বসবে। আমরা একমত হয়েছি যে, জি-সেভেন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোনো পণ্য রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।
জি-সেভেনের উদ্যোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের কৌশলগত তেলের মজুত নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডিজেল রফতানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবেন না বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, খুব শিগগিরই আবার পূরণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের কাছে প্রচুর ডিজেল মজুত আছে এবং তারা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অবদান রাখতে যাচ্ছে। আমরাও তাই করব। আমরা কোনো রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি না। আমি তাদের অনুরোধ করেছিলাম। আমাদের হাতেও প্রচুর তেল আসবে। তেলের দাম কমে আসবে।
জি-সেভেনের ঘোষণার পরপরই এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমে যায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ১১ ডলার। ডিসেম্বরে সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ১০২ দশমিক ২৫ ডলারে। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর সমন্বিত এই পদক্ষেপ জ্বালানি বাজারে কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
/এমএন