মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট, মোতায়েন হবে আরও মেরিন সেনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী এবং আরও একটি মেরিন ডিভিশন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি অতিরিক্ত ডিভিশন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের অংশ হিসেবে তারা এ অঞ্চলে অবস্থান করবে। গত রোববার সান ফ্রান্সিসকো থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট।
এর একদিন পর, সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ। এই বহরে রয়েছে ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট।
এতে প্রায় ২ হাজার ২শ' মেরিন সেনা ও অন্যান্য সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি, বহরের তিনটি জাহাজে রয়েছেন প্রায় ২ হাজার নাবিক।
সর্বশেষ মোতায়েন-চিত্র অনুযায়ী, এরই মধ্যে আরব সাগরে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। এগুলো হলো ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ও ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
জর্জ ওয়াশিংটন গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। দুটি রণতরীই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হিসেবে কাজ করছে। এসব স্ট্রাইক গ্রুপে যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সহায়ক ও প্রতিরক্ষামূলক নৌযান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও কার্যক্রমে এসব বহর সহায়তা দিয়ে থাকে।
এদিকে, ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট নিউজ জানিয়েছে, থিওডোর রুজভেল্টকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আওতাধীন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রতিস্থাপন করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর অংশ হিসেবে আরব সাগরে ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও মোতায়েন রয়েছে। এই বহরের সঙ্গে রয়েছে ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট। বহরে আরও রয়েছে ইউএসএস পোর্টল্যান্ড এবং ইউএসএস কমস্টক।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও মেরিন বাহিনীর উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপের পরিসর বাড়াচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত মোতায়েনের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সামরিক সক্ষমতা থাকবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তাঁর সামনে আরও বিস্তৃত বিকল্প তৈরি হবে।
/এআই